কলকাতা: দেশের ৮০-তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে 'বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ' দিবস পালন রাজ্যে। সেই অনুষ্ঠান থেকেই স্বাধীনতা দিবসকে স্মরণ করেও একাধিক বক্তব্য পেশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'অতীত ভুলে গেলে ভবিষ্যৎ-ও ভাল হয় না। ঠিক যেমন এখন পিসি-ভাইপোর ছত্রভঙ্গ অবস্থা। পুরসভায় বিপুল ভোটে জিতবে বিজেপি। ইতিহাস ভোলানোর চেষ্টা চলেছিল।'

Continues below advertisement

এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর মুখে 'গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং' এর প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। তিনি বলেন, 'আমরা কেউ দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ভুলতে পারি না। দেশভাগ আমাদের জন্য সুখকর নয়। পরিকল্পনা করে দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং হয়েছিল। কিছুদিন আগে সুরাবর্দির নামে একটা রাস্তা ছিল। পুরসভা তা গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নামে করেছে। বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ' দিবসে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। 

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'রাস্তা, উন্নয়ন, শিল্প-সব তো হবে। চাহিদা বাড়বে, দিতেও হবে। তবে বাংলাদেশ হয়ে যাওয়া থেকে আমরা বেঁচে গেছি। এগুলো তুলে ধরা এই সরকারের কাজের একটি অঙ্গ। ৩৪ বছরে বাম আমল, যাদের বাড়িতে নেতাজির ছবি থাকে না। বামেদের সবাই। আর ১৫ বছর ছিলেন, এরা সবাই সুরাবর্দির নাতি-নাতনি-গুষ্টি। এদের মধ্যে রাষ্ট্রবাদের চেতনা ছিল না। শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ভুলিয়ে রাখা হয়েছিল। খেলা হবে বলতে গিয়ে নিজেরাই মাঠের বাইরে। একবার নয়, ২বার আমার কাছে হেরেছিলেন। কৌশলে ১৬ অগাস্ট 'খেলা হবে' দিবস ঘোষণা করেছিলেন', সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী। 

Continues below advertisement

প্রসঙ্গ Great Calcutta Killing

১৯৪৬ সালে ব্রিটিশরা ভারত ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক কাঠামো কেমন হবে—সেটি নিয়ে Indian National Congress এবং All-India Muslim League-এর মধ্যে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছিল। ১৯৪৬ সালের Cabinet Mission Plan-কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হতে থাকে। এরপর মুসলিম লীগ ‘Direct Action’-এর পথে যাওয়ার ঘোষণা করে। সেদিন হরতাল, সভা ও মিছিলের কর্মসূচি ছিল। বাংলায় তখন মুসলিম লীগের সরকার ক্ষমতায় এবং মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হুসেন শহীদ সুরাবর্দী। প্রথমে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে শুরু হলেও কলকাতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মিছিল, পাল্টা মিছিল, সংঘর্ষ, লুঠপাট ও অগ্নিসংযোগ শুরু হয়। সংঘর্ষ দ্রুত হিন্দু ও মুসলিম জনতার মধ্যে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক হিংসায় পরিণত হয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮ নভেম্বর ১৯৪৬-এ দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৬–১৯ অগস্ট কলকাতায় প্রায় ৪,০০০ জন নিহত এবং ১০,০০০ জন আহত হয়েছিলেন। নেহরু আর্কাইভে সংরক্ষিত ১৯৪৬-এর নথিতে পরে প্রায় ৫,০০০ নিহত এবং ১৫,০০০ আহত হওয়ার হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সময় রাজনৈতিক ও ওয়াকিবহাল মহলের মত ছিল যে, ১৯৪৭-এর দেশভাগের আগে যে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে ১৯৪৬-এর কলকাতার দাঙ্গাকে দেখা হয়।