নবান্ন সভাঘর, হাওড়া: অনুপ্রবেশ নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতি রাজ্য সরকারের। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমান্তের ২৭ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু করার জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে দিল নতুন রাজ্য সরকার।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: আগের রাজ্য সরকার রাজনৈতিক কারণে, ভোট ব্যাঙ্কের জন্য হয়তো জমি দেয়নি: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কী আইন রয়েছে? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, "ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১৪-০৫-২০২৫ সালে যারা অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তদের সরাসরি বিএসএফের হাতে হস্তান্তরের জন্য একটি নির্দেশিকা এবং তার সঙ্গে একটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হস্তান্তরের আইন ভারত সরকারের পক্ষে প্রতাপ সিং রাওয়াত পাঠিয়েছিলেন। অর্থাৎ ১ বছরের বেশি আগে।"

Continues below advertisement

শুভেন্দু অধিকারীর তোপের মুখে আগের সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, "পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকার, একদিকে শরণার্থীদের CAA দেওয়ার পক্ষে বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বা ভারত সরকারের আইনকে কাজে লাগানো হয়নি। আজ থেকে আমরা এই আইন কার্যকর করলাম। এর ফলে CAA-এর অন্তর্ভুক্ত যাঁরা, অর্থাৎ CAA-তে বলা ৭ টা ধর্মের মানুষ নাগরিকত্ব(সংশোধনী) আইনের আওতায় আসবে। এবং ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসেছেন, তাঁদের পুলিশ কোথাও হ্যারাস বা ডিটেন করতে পারবেন না।"

আরও পড়ুন: আপনার কি একটার বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট? কোনটায় ঢুকবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা?

অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে তাহলে কী হবে? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, "CAA -এর আওতায় যাঁরা নেই, তাঁরা হলেন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদেরকে সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করবে, আটক করবে ও হস্তান্তর করবে বিএসএফের হাতে। বিএসএফ কথা বলবে বিডিআরের সঙ্গে কথা বলে তাদের ডিপোর্ট করার ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ, ডিটেক্ট-ডিলিট আর এবার ডিপোর্ট। এই আইন আজ থেকে কার্যকর হল।"

বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আগের সরকার কেন সেখানে কাঁটাতার দেয়নি, তারও একটা সম্ভাবনার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কটাক্ষের মুখে পূর্বতন রাজ্য সরকার, "বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের রাজ্যের সীমান্ত ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার কাঁটাতার রয়েছে। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার কোনও কাঁটাতার নেই। এর মধ্যে ৫৫৫ কিলোমিটার এমন এলাকা রয়েছে যেখানে রাজ্য চাইলেই বিএসএফকে জমি দিতে পারত। কিন্তু বিগত রাজ্য সরকার রাজনৈতিক কারণে, ভোট ব্যাঙ্কের জন্য ও যে তোষণের জন্য হয়তো জমি দেয়নি।"