কলকাতা: ফের বাংলায় সরকার ফেলার ইঙ্গিত শুভেন্দুর। সোমবার ধর্মতলার সভা থেকে তিনি বলেন, 'মানুষ দেখতে পাচ্ছে, যেতেই হবে, দেখতে থাকুন। দেখতে থাকুন, মহারাষ্ট্রের পর ঝাড়খণ্ড, ঝাড়খণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গ।

এর আগে একাধিকবার ডিসেম্বর ডেডলাইনের হুঙ্কার দিতে শোনা গেছে শুভেন্দু-সুকান্ত-দিলীপ ঘোষদের। সম্প্রতি নারায়ণগড়ের সভা থেকে ফের ডিসেম্বর-ডেডলাইন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেছিলেন, 'এখন মাগুর মাছ বেরোচ্ছে, সিবিআই রোজ মাগুর মাছের ঝোল খাওয়াচ্ছে। যত নেতা আছে, যত চোর আছে... এখন হালকা ঠান্ডা, ডিসেম্বরে জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়বে। তখন দেখবেন তৃণমূল কাঁপছে।' শুভেন্দুকেও এর আগে বলতে শোনা গিয়েছিল, 'ছ'মাস তৃণমূল কংগ্রেস থাকবে না৷ তার আগেই ডিসেম্বরের মধ্যে ঝাঁপ গুটিয়ে যাবে তৃণমূলের।' দিলীপ ঘোষও বলেছিলেন, 'এই সরকারের কোনও ভরসা নেই। পদ্মপাতায় জলের মতো। এই আছে, এই নেই।'

তৃণমূলের পাল্টা:তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, 'উনি ভুলে গিয়েছেন এটা পশ্চিমবঙ্গ। এটা গোয়া, মহারাষ্ট্র নয়। এখানে ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে এখানে জনপ্রতিনিধিদের কেনা যায় না। সরকার ফেলা যায় না। দলে ওঁর নিজের যা অবস্থা। ওঁর সঙ্গে দলের রাজ্য সভাপতির কথা হয় না। ২০০ পার বলে এখন ৭০, আনঅফিসিয়ালি কত উনি নিজেও জানেন না।'

সিপিএমের কটাক্ষ:সিপিএম নেতা শমীক লাহিড়ি বলেন, 'বিজেপির মানুষের উপর ভরসা নেই। তাই জনপ্রতিনিধি কেনাবেচা করে। আমরা বলি, মানুষকে সঙ্গে নিয়েই তৃণমূলকে হঠাতে। জনপ্রতিনিধি কেনাবেচা গণতন্ত্র হত্যার সামিল। কে যে কখন বিজেপি, কে যে কখন তৃণমূল বোঝা যায় না। এখন যিনি বিরোধী দলনেতা, তিনি তো তখন মন্ত্রী ছিলেন। চুপ করে বসেছিলেন কেন?'

কংগ্রেসের তোপ:কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, 'দিদি আর মোদির পারস্পরিক সমঝোতা রয়েছে। বাংলায় সরকার পড়বে না তার কারণ, মোদির সঙ্গে দিদির যে সমঝোতা তা এখানকার বিজেপি নেতাদের বোঝার ক্ষমতা নেই।' আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন মমতা:নদিয়া সফরের মাঝে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেছিলেন যে উত্তরবঙ্গকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। যার জন্য বিহার সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচার করা হচ্ছে রাজ্যে। যে জন্য পুলিশকে নাকা তল্লাশি বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। রানাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'উত্তরবঙ্গকে অশান্ত করতে সীমান্ত থেকে অস্ত্র আসছে। উত্তরবঙ্গকে ছত্রভঙ্গ করতে বিহার থেকে অস্ত্র আসছে। বিহার থেকে ১ হাজার টাকায় অস্ত্র ঢুকছে, ওপার থেকেও অস্ত্র ঢুকছে। উত্তরবঙ্গে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।' তারপরই পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, 'নাকা তল্লাশি বাড়াতে হবে, কড়া নজর রাখতে হবে'। 

আরও পড়ুন: 'মা সারদা নাকি জন্মেছেন কালীঘাটে, কেন তুলনা ব্যাখ্যা দিতে হবে', নির্মল মাজিকে আক্রমণ শুভেন্দুর