কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী যখন নেতাজি ইন্ডোরে চাকরিহারাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, তখন বিধানসভার সামনে বিক্ষোভ দেখালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। চাকরিহারাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি এও বলেন, 'এই রায়ের পিছনে খেলা কার? কে খেলেছে?' 

মমতার এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আজ মুখ্যমন্ত্রী চিফ জাস্টিসকে আক্রমণ করেছেন। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বর্তমান প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ১৬ বার শুনানি করেছেন, সকলকে বলার সুযোগ দিয়েছেন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে আইনজীবী দিয়ে অযোগ্যদের বাঁচানোর জন্য যোগ্যদের বলি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এই ১৬ বারের শুনানিতে একবারও যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশ করেননি। আর উনি তো বলেন উনি আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্টে যোগ্যদের হয়ে মুখ্যমন্ত্রীই সওয়াল করুন।'

উল্লেখ্য, এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বলেন, 'আমি অভিষেক সিংভি, কপিল সিব্বল, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের বলেছি, আইনি লড়াই লড়তে। কোর্টের কাছে জানতে চাইব, চাকরিরত শিক্ষকদের ছাড়া কী করে স্কুল চলবে? পথ হারালে নতুন পথ পাওয়া যায়. চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের ধর্ম। যোগ্যদের চাকরি যাবে না, কোর্টে যাব'।                               

রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কথায়, '২৬০০০ চাকরি বাতিলের জন্য একমাত্র দায়ী মমতা বন্দোপাধ্যায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দিয়ে এসএসসির অটোনমি শেষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওএমআর নষ্ট করেছে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যোগ্যদেরকে রক্ষা করতে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট ৩ বছর সময় দিয়েছে। একবারও যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা দেয়নি রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টে যোগ্য তালিকা দিক রাজ্য সরকার। তাহলেই দুধ-জল আলাদা হবে, যোগ্যদের সমস্যা থাকবে না। ২১ তারিখ চাকরিপ্রার্থী, যোগ্যদের শিক্ষক সংগঠন, নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছেন। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে যোগ্যদের তালিকা না দিলে, ২১ এপ্রিল লক্ষ মানুষ পতাকা ছাড়া নবান্নে যাবে। ৩০০০ চাকরি বিক্রির জন্য হরিয়ানার প্রাক্ত মুখ্যমন্ত্রী জেলে গেছেন'। 

এদিকে আজ ’কালীঘাট চলো’র ডাক দিয়েছে রাজ্য বিজেপি যুব মোর্চা। এক্সাইড মোড় থেকে কালীঘাটে যায় বিজেপি। মিছিলের নেতৃত্বে লকেট চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, ইন্দ্রনীল খাঁ। অশান্তি এড়াতে পুলিশে ছয়লাপ এক্সাইড মোড়। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়কে আটকও করে পুলিশ।