মধ্যমগ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা : মধ্যমগ্রামে মাঝরাস্তায় গাড়ি আটকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। গত ৬ মে ঘটেছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি কেউই। তবে এবার পুলিশের হাতে এসেছে এক নতুন তথ্য। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুসারে, ঘটনার দিন, চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির রাস্তা আটকেছিল একটি নিসান মাইক্রা গাড়ি। সিলভার শেডেরে এই চারচাকা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরদার চর্চা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে খবর, সেদিন চন্দ্রনাথের গাড়ির পিছন দিক থেকে কার্যত ওভারটেক করে এসে আড়াআড়ি ভাবে রাস্তা আটকেছিল ওই নিসান মাইক্রা গাড়ি। এভাবে পিছন থেকে ওভারটেক করে এসে চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকানোর ফলে, দুই গাড়ির চালক অর্থাৎ চন্দ্রনাথের গাড়ির চালক এবং নিসান মাইক্রা গাড়ির চালকের মধ্যে জোরদার বচসা হয়। চন্দ্রনাথকে খুনে আগে এই ঝগড়া হয় বলে খবর। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির চালকও সেদিনের ঘটনায় গুরুতর ভাবে আহত হয়েছিলেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশের অনুমান, প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা অনুসারে পিছন থেকে ওভারটেক করে এসে চন্দ্রনাথের গাড়ির রাস্তা আটকানোর পর দুই গাড়ির চালকের মধ্যে বচসা হওয়ার পরই চন্দ্রনাথের উপর চড়াও হয় আততায়ীরা। মাত্র ৫০ সেকেন্ডের অপারেশন। আর তাতেই একদম টার্গেট করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী) আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। পুলিশ সূত্রে খবর, আততায়ীদের টার্গেটে ছিলেন শুধুমাত্র চন্দ্রনাথই। গাড়ির চালক ঘটনার সময় সেখানে থাকায় গুলিতে জখম হন তিনিও। তবে তাঁকে খুন করার উদ্দেশ্য নিয়ে আসেনি আততায়ীরা।
'সব বন্ধ করে দিন, ভদ্র হোন', মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে, পুলিশের হাতে এল নতুন তথ্য। সূত্রের খবর, CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানা গেছে, অপারেশনের আগে বালি টোলপ্লাজা পার করেছিল নিশান মাইক্রা গাড়িটি। সূত্রের খবর, টোলপ্লাজায় UPI মারফৎ পেমেন্ট করা হয়েছিল। সেই UPI পেমেন্টের সূত্র ধরেই, অভিযুক্তদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। যার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে UPI ট্রানজাকশন হয়েছিল, তিনিই কি গোটা অপারেশনের পিছনে? জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অন্যদিকে আততায়ীদের খোঁজে এখনও ভিন রাজ্যে পুলিশের টিম রয়েছে। পাশাপাশি যারা লজেস্টিক সাপোর্ট দিয়েছিল এবং যারা টিপার ও শার্প শ্যুটার ছিল, তাদের চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ। খুব তাড়াতাড়ি গোটা হত্যাকাণ্ডের কিনারা হবে বলে আশাবাদী তদন্তকারীরা। চন্দ্রনাথকে খুনের আগে তাদের গাড়িটি আটকায় নিশান গাড়ি। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদেরকে জানিয়েছেন, অপারেশনের আগে রাস্তা আটকে দেওয়া নিয়ে দুই গাড়ির চালক ও আরোহীদের মধ্যে বচসা হয়েছিল।
