বিটন চক্রবর্তী, চণ্ডীপুর: নির্বাচন মিটেছে। তবে সামনে আরও কাজ। কিন্তু এর আগেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। শিউরে ওঠা ঘটনা। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। এই ঘটনা এখনও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন মা। ছেলেকে হারিয়ে শোকসন্তপ্ত মা। কালই ছেলেকে দেখলেন অথচ রাতেই খবর পেলেন সব শেষ।
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের ঈশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুলুপ গ্রামে বাড়ি নিহত চন্দ্রনাথ রথের বাড়িতে আছেন মা, ভাই ও ভায়ের স্ত্রী। গতকাল বিকেলেই বাড়ি থেকে কলকাতায় ফিরেছেন চন্দ্রনাথ। রাতে বাড়ির ছেলের এই পরিণতিতে শোকে স্তব্ধ পরিবার।
আর কোনওদিন ছেলেকে দেখতে পারবেন না। শোকস্তব্ধ মা বলেন, 'আমি চাই দোষীরা শাস্তি পাক। আমিও তো মা চাইব না ফাঁসি হোক তবে যাবজ্জীবন শাস্তি হোক। আমরাও বিজেপি করি তাই এই পরিণতি? একজন বলেছিল যে ৪ তারিখের পর দিল্লির কোনও বাপ বাঁচাতে পারবে না। সেটাই দেখিয়ে দিল। যে সরকার গঠন করবে তাকে বলব আমার ছেলের মৃত্যুর বিচার হোক, শাস্তি হোক। আমার ছেলের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে আমার মনে হয় এত কষ্ট হত না। এটা তৃণমূলেরই সাজানো। ও নন্দীগ্রাম, ভবানীপুর এবং চন্ডিতলার দায়িত্বে ছিল। সেই কারণে হয়তো ও টার্গেট ছিল তৃণমূলের। সেই কারণেই এই প্রতিশোধ।
চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় পুলিশের স্ক্যানারে চারচাকা গাড়ি। পুলিশ সূত্রে দাবি, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বর প্লেট আসলে ভুয়ো। অন্য গাড়ির নম্বর প্লেট নকল করে এই গাড়ির নম্বর প্লেট তৈরি করা হয়েছে। এমনকী কোথাও চেসিস নম্বর ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছে, কোথাও ঝালাই করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনার পর এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি চালক বুদ্ধদেব বেরাও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিনটি গুলি লেগেছিল তাঁর। সেই তিনটি বুলেট বের করা গেছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। তৈরি হয়েছে মেডিক্যাল টিম।
উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে দাবি, গাড়ি করে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া দিয়ে যাচ্ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। সেই সময় একটি গাড়ি এসে তাঁর পথ আটকায়। পুলিশ সূত্রে দাবি, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, যে গাড়িটি রাস্তা আটকায়, সেটি উইলিয়াম যোশেফ নামে এক ব্যক্তির নামে রেজিস্টার্ড। তিনি শিলিগুড়ির বাসিন্দা। পেশায় টি ইন্ডাস্ট্রির একজন কর্মী। কিন্তু তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি দাবি করেন, তাঁর গাড়ি তাঁর কাছেই শিলিগুড়িতে রয়েছে। অর্থাৎ পুলিশ সূত্রে দাবি, অত্য়ন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গাড়ির মডেল, এমনকী নম্বর প্লেট নকল করে এই খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
