বারুইপুর: বারুইপুর সফরে আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবার এবং নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভয়ে থাকার কথা সাধারণ মানুষের নয়, অপরাধীদের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "খুনি, ধর্ষকরা ভয়ে থাকুক। অভিযুক্তদের ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক।" তাঁর কথায়, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না এবং আইন অনুযায়ী প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুই পরিবারের বাড়িতেই থাকবে পুলিশ পাহারা
শুভেন্দু অধিকারী জানান, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হবে। নির্যাতিতার পরিবার এবং নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই বাড়িতেই পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হবে যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে । তিনি বলেন, ঘটনার পর অনেক ব্যবসায়ী আতঙ্কে দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। সেই পরিস্থিতি কাটাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকে প্রচার চালানো হবে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার আহ্বানও জানান তিনি।
'বেআইনি মদের ঠেক, গাঁজা-মাদকই অশান্তির বড় কারণ'
বারুইপুরের সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বেআইনি মদের ঠেক, গাঁজা এবং অন্যান্য মাদকের কারবার বহু সামাজিক অস্থিরতার অন্যতম বড় কারণ। এই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি জানান।
'ছোট ঘটনা বা লাভ অ্যাফেয়ার্স বলে উড়িয়ে দেওয়া হবে না'
অপরাধমূলক ঘটনার তদন্ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এ ধরনের ঘটনাকে আর 'ছোট ঘটনা' বা 'লাভ অ্যাফেয়ার্স' বলে ব্যাখ্যা করা হবে না। প্রতিটি অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্পষ্টতই পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে, তাঁর প্রতিই কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই সরকারের অগ্রাধিকার। তাই অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানো থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার—সব ক্ষেত্রেই প্রশাসন সক্রিয় থাকবে।
এদিন নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই পরিবার সরকারকে সহযোগিতা করেছে। পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযুক্তরা বসিরহাট সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চলবে এবং এই তদন্ত মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি পর্যবেক্ষণে হবে।
'এটা গণপিটুনি নয়, নাম-পরিচয় দেখে হামলা'
পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এটি সাধারণ গণপিটুনির ঘটনা নয়। তাঁর কথায়, "নাম-পরিচয় দেখে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছে।" পাশাপাশি দাবি করেন, নির্বাচনে পরাজিত কিছু মানুষের উস্কানি এই ঘটনার পিছনে থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইন্দ্রজিৎকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে এবং তাঁর পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। অভিযুক্তদের চূড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন।
পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা, দাদার চাকরি
ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নিহতের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়ার কথাও জানান।
