গত লোকসভা ভোটের পর থেকেই চওড়া হচ্ছিল ফাটলটা। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির চালিকাশক্তির সঙ্গে দিলীপের বনিবনার অভাবের ধারণা প্রায় স্পষ্ট হয়ে উঠছিল দিনের পর দিন।  দলের বড় কোনও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি দিলীপ ঘোষকে। নরেন্দ্র মোদি থেকে অমিত শাহ, বিজেপির শীর্ষ দুই নেতা রাজ্যে কর্মসূচিতে এলেও, ডাক পাননি তিনি। শেষমেষ বছরের শেষ দিনে বরফ গলে অমিত শাহের সাংগঠনিক বৈঠকে । তাঁকে ডেকে নিয়ে একান্তে কিছুক্ষণ কথাও বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু নতুন বছরের শুরুতেই দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করলেন তথাগত রায়। একেবারে তীব্র শ্লেষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দিঘা মন্দিরে সাক্ষাৎ ঘিরে করলেন বিতর্কিত মন্তব্য। 

Continues below advertisement

সরাসরি বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটু ফ্লার্টিং করেছিলেন দিলীপ ঘোষ, তাও দিঘার মন্দিরে গিয়ে। রাজ্য বিজেপিতে যখন দিলীপ ঘোষের কামব্যাক হল, তখন তাঁকে এভাবেই তীব্র আক্রমণ  করলেন বিজেপির আরেক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি , তথাগত রায়। সম্প্রতি অমিত শাহের বৈঠকে উপস্থিত থাকার পর বিজেপির  প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের গলায় ছিল সক্রিয়তার সুর। যা নিয়ে তথাগত রায়ের মত, দিলীপ ঘোষ এলেন না গেলেন, তাতে কিছু এসে যাবে না ! তবে এই প্রথম নয়, গত বিধানসভা ভোটে বিজেপির ফলের পর একেবারে দিলীপের নাম না করেও স্পষ্ট ও ক্ষুরধার সমালোচনা করে গিয়েছেন তথাগত রায়। 

'ওটা ফ্লার্টিং'

Continues below advertisement

বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায় দিলীপের সৌজন্য-তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে বলেন, সৌজন্য ১০০ বার হতে পারে,সৌজন্য় হচ্ছে ডেকে চা খাওয়ানো। কিন্তু...ওটা ফ্লার্টিং। ফ্লার্টিং ছাড়া এর কোনও... যোগ্য় প্রতিশব্দ বাংলায় নেই।                

'মুখ্য়মন্ত্রী হওয়ার হকদার বা যোগ্য় ব্য়ক্তি হলেন ... '

২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে বিজেপির উল্লেখযোগ্য ফল হয় প্রথমবার। তার ক্রেডিট অনেকেই দেন, সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে দলের অন্যতম কাণ্ডারী দিলীপ ঘোষকে। কিন্তু সে-সব উড়িয়ে তথাগত রায়ের মন্তব্য, 'বিজেপি ২০১৯ সালে যে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে, সেটার কারণ একটি ব্য়ক্তি, তাঁর নাম নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি। আর কেউ নয় ... দিলীপ ঘোষ এলেন না গেলেন, তাতে কিছু এসে যাবে না। এই রাজ্য়ে মুখ্য়মন্ত্রী হওয়ার হকদার বা যোগ্য় ব্য়ক্তি একমাত্র শুভেন্দু অধিকারী।'