কমলকৃষ্ণ দে, রায়না: সাধারণ মানুষ কী ধৈর্য্য হারাচ্ছে? অতি সামান্য কারণেই কি কেউ কারও প্রাণ নিয়ে নিতে পারে? প্রথমে কামারপুকুরে ডিম খাওয়া নিয়ে বচসার জেরে যুবক খুন, আর এবার, বিস্কুট খাওয়া নিয়ে বচসার জেরে চলে গেল একটা প্রাণ! ডিম বা বিস্কুট.. এই সামান্য তুচ্ছ কারণে কী প্রাণ চলে যেতে পারে সাধারণ মানুষের! একের পর এক এই ধরণের ঘটনা যেন বারে বারে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে, মানুষ কী সত্যিই ধৈর্য্য শক্তি হারিয়েছে? পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল শুধুমাত্র বিস্কুট নিয়ে বচসার জেরে? 

Continues below advertisement

কী ঘটেছে? জানা যাচ্ছে, পূর্ব বর্ধমানের রায়নায়, একটি বিস্কুট নিয়ে বচসা শুরু হয় ক্রেতা আর চা বিক্রেতার মধ্যে। আর সেই থেকেই খুন! প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, চা খাওয়ার পর বিস্কুট ভাল নয় বলে দাবি করেন ক্রেতা। এরপরেই শুরু হয় বচসা। বচসা চলাকালীন বাঁশ নিয়ে ক্রেতার দিকে তেড়ে যান বিক্রেতা। পাল্টা বিক্রেতাকে বাঁশ দিয়ে মারতে শুরু করেন অভিযুক্ত ক্রেতা। চা বিক্রেতাকে কোনওমতে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।এরপরে  নার্সিংহোমেই মৃত্যু হয় ওই চা বিক্রেতার। 

জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনের দিনই কামারহাটির ক্লাবে ঘটেছিল এমনই একটা ভয়াবহ ঘটনা। প্রতিমা বিসর্জনের পর ক্লাবঘরে জড়ো হয়েছিলেন সদস্যেরা, সেখানেই একসঙ্গে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন ছিল। কিন্তু সমস্যা শুরু হয়, ডিম সিদ্ধ খাওয়াকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ক্লাবেরই এক সদস্য, ৩টি সিদ্ধ ডিম খেয়ে ফেলেন। সেই অপরাধে, ক্লাবের সেই সদস্যকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল ওই সদস্যেরই বন্ধুদের বিরুদ্ধে! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছিল হুগলির কামারপুকুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে। জানা গিয়েছিল, ওই যুবকের বয়স ছিল মাত্র ২৬ বছর। ঘটনায় ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

Continues below advertisement

কয়েক মাস আগে, ডিম বিতরণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল বালুরঘাটের (Balurghat) অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে (Balurghat Angwanwadi Center)। কথা কাটাকাটি থেকে মারামারির অভিযোগ উঠেছিল। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ইন চার্জ নিজের মর্জি মতন চলেন, এই অভিযোগেই বিক্ষোভ অভিভাবকদের। বিক্ষোভকারী অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন অঙ্গনওয়াড়ির হেল্পার। তা নিয়েই কথা কাটাকাটি ইন চার্জ ও হেল্পারের মধ্যে। হেল্পারকে মারধরের অভিযোগ ইন চার্জের বিরুদ্ধে। ঘটনায় আহত হেল্পার, ভর্তি বালুরঘাট হাসপাতালে, তদন্তে পুলিশ। অভিভাবকরাও এই বিষয়ে নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন।