সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনাঃ   মতুয়া (Matua) আবেগে সান দিতে মতুয়া ধর্মগুরু গুরুচাঁদ ঠাকুরের বাংলাদেশে (Bangladesh) ব্যবহার করা খাট এল ঠাকুরনগরে। শনিবার দুপুরে পেট্রাপোল বন্দরে ডঙ্কা কাশি নিয়ে গুরুচাঁদ ঠাকুরের ব্যবহার করা খাট ভারতে নিয়ে আসার জন্য স্বাগত জানায়  মতুয়া ভক্তরা। দুইশো বছরের প্রাচীন এই খাট বাংলাদের থেকে আজ আনা হচ্ছে ঠাকুরনগরে । দুপুরের পরেই পেট্রাপোল বন্দরে পৌঁছায় শান্তনু ঠাকুর(Santanu Thakur), সুব্রত ঠাকুর (Subrata Thakur) ও বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অশোক কির্তনীয়া।  


আরও পড়ুন, ‘হামলার সময় ঘটনাস্থলেই ছিল শাহবাজ, ওয়াসিম', ভাটপাড়াকাণ্ডে গ্রেফতার ২


বাংলাদেশে গুরুচাঁদ ঠাকুরের ব্যবহার করা খাট এল ঠাকুরনগরে


মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua Mahasangha) তরফে দাবি, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের শিক্ষার প্রসারে গুরুচাঁদ ঠাকুরের অবদান ছিল। সেই পতিত পাবন গুরুচাঁদ ঠাকুরের খাট বাংলাদেশ থেকে ভারতে আনা হচ্ছে  সেই বিষয়ে আমরা খুশি' বলে জানিয়েছে মতুয়া ভক্তরা । বাংলাদেশের তরফ থেকে মতুয়া ধর্মের পদ্মনাভ ঠাকুর জানিয়েছেন, 'ভারতবর্ষের ঠাকুরনগরের গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে মিউজিয়াম স্থাপিত হবে সেই কারণে গুরুচাঁদ ঠাকুরের এই খাট আমরা ভারতের মতুয়া মহা সংঘের হাতে তুলে দিচ্ছি।'অন্যদিকে, বনগাঁ লোকসভার সংসদ তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী এবং মতুয়া ধর্ম গুরু শান্তনু ঠাকুর বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, 'ঠাকুরনগরের ঠাকুরের নামে মিউজিয়াম তৈরি হবে। আমরা সেই মতো প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ থেকে গুরুচাঁদ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত এই খাট ভারতে নিয়ে এলাম। আগামীতে গুরুচাঁদ ঠাকুরের ব্যবহৃত আরো সামগ্রী ভারতে (India) নিয়ে আসা হবে। সর্বোপরি মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নতি করতে মতুয়া ধর্মের আবেগকে কাজে লাগাতে চাইছে শান্তনু ঠাকুর।'


মতুয়াদের মন জয়ে শাসকদল এবং গেরুয়া শিবির


এই বিষয়ে বনগাঁ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি (TMC Bangaon District) গোপাল শেখ বলেন, 'এই খাঁটি প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের না গুরুচাঁদ ঠাকুরের তা আমাদের জানা নেই। যদি গুরুচাঁদ ঠাকুরের খাট হয়ে থাকে। সেই খাট এই দেশে নিয়ে এলে সেটা ভালো। কিন্তু শান্তনু ঠাকুর যদি ভেবে থাকেন, এই খাট এনে তিনি মতুয়া ভক্তদের বিজেপির (BJP) পক্ষে থাকতে বলবেন তাহলে উনি ভুল করবেন।' প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা ভোটে মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua Mahasangha) সঙ্গে একাধিক কর্মসূচি পালন করে গেরুয়াশিবির। সভার পর মধ্যাহ্নভোজ থেকে একাধিক ইস্যুতে ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে কর্মসূচি পালন করে শাহ-শুভেন্দুরা-দিলীপরা (Suvendu Adhikari and Dilip Ghosh)। যদিও একুশের বিধানসভা ভোটের অনেক আগেই মতুয়াদের মন জয় করতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) ঠাকুরনগর স্টেশনকে (Thakur Nagar) মডেল স্টেশনের রূপ দেন। এমনকি প্রশাসনিক বৈঠকে আরও একাধিক পরিকল্পনা কথাও প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। স্বাভাবিকভাবেই মতুয়াদের মন জয় করতে শাসকদল এবং গেরুয়া শিবিরের প্রতিযোগিতা একইভাবে চলে আসছে। আর এবার মতুয়াদের উপহারের তালিকায় এল গুরুচাঁদ ঠাকুরের ব্যবহার করা খাট। স্বাভাবিকভাবেই এবার উচ্ছ্বাসে ভাসল মতুয়া সম্প্রদায়।