প্রকাশ সিনহা, দুবরাজপুর, বীরভূম: পুরনো একটি হামলার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল দুবরাজপুরে। সেই ঘটনায় অনুব্রতকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। সেই মামলার নথি চাইতে আদালতে গিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এবার ইডির যুক্তিতেই মান্যতা, দুবরাজপুর-মামলায় নথি দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত।

কী নির্দেশ আদালতের:আদালত জানিয়েছে, অনুব্রতকে নিয়ে তদন্ত আগে থেকেই করছে ইডি। ইডিও তদন্তকারী সংস্থা, তাই তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আদালতে ইডির দাবি ছিল, 'অনুব্রতকে পুলিশের গ্রেফতারির বিষয়টি পুরোটাই সাজানো। দিল্লি যাত্রা আটকাতেই অন্য মামলায় অনুব্রতকে গ্রেফতার।' ইডির আইনজীবী বলেন, নেপথ্যে কারা রয়েছে, খুঁজে বের করতে হবে। তাঁর আরও দাবি, 'কোন সময়ে হামলার ঘটনা, অভিযোগপত্রে কিছুরই উল্লেখ নেই। রাজ্যের আপত্তি আমাদের অবাক করছে'। পাল্টা সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, 'ইডি সার্টিফায়েড কপি কেন চাইছে, আবেদনপত্রে তার উল্লেখ নেই। তদন্ত এখনও শেষ হয়নি, থার্ড পার্টি কপি নিতে চাইলে সঠিক কারণ দেখাতে হবে'। ইডির আবেদনপত্রেই ত্রুটি রয়েছে, দাবি সরকারি আইনজীবীর।

অনুব্রত মন্ডকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইডি। দিল্লিযাত্রা রুখতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনুব্রত মন্ডল। কিন্তু রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন অনুব্রত মন্ডল। সেখানে স্বস্তি মেলে তাঁর। ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুব্রতর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করতে পারবে না এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কারণ ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রেখেছে দিল্লি হাইকোর্ট। পরবর্তী শুনানি ৯ জানুয়ারি হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আপাতত ১৯ দিন তাঁকে দিল্লি নিয়ে যেতে পারবে না ইডি। 

কখন অভিযোগ:এই সময়েই একটি পুরনো ঘটনায় অনুব্রতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান শিবঠাকুর মণ্ডল। এক বছর আগে না কি, তাঁকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি সেদিন অভিযোগ করেন, যেদিন দিল্লির আদালত ইডিকে অনুব্রতকে মণ্ডলকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেয়। তারপরেই অভিযোগ ওঠে, অনুব্রতর দিল্লি যাওয়া আটকাতেই এই অভিযোগ করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে, বীরভূমের জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্য়ায় সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, 'হ্যাঁ, ব্য়বস্থাই তো! ব্য়বস্থাই, একশোবার! ইডি এবং সিবিআই যেখানে মিথ্য়া করে একটা লোককে বিনা দোষে, দিনের পর দিন আটকে রাখার চেষ্টা করছে, আমরাও চেষ্টা করছি সেই লোকটাকে বাঁচাবার।' 

এই মামলায় নথি পেতে আদালতে যায় ইডি। তারপরে আদালতই নথি দেওয়ার নির্দেশ দিল।   আরও পড়ুন: ক্রিসমাসের রাতে পানশালায় 'তাণ্ডব', গ্রেফতার বাংলাদেশের ২ বাসিন্দা