সুজিত মণ্ডল, নদিয়া: উপপ্রধান পদের টোপ দিয়ে বিজেপির জয়ী সদস্যকে তৃণমূলে যোগ দিতে চাপ! এমনই অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে নদিয়ার কালীনারায়ণপুর-পাহাড়পুর পঞ্চায়েতে। বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার-সহ সভানেত্রী পূর্ণিমা দত্তর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই দলের এক জয়ী সদস্য। পূর্ণিমা দত্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যদিও এই ইস্যুতে রাজনীতি চলছে জোরকদমে। 

উপপ্রধান পদের টোপ দিয়ে বিজেপির জয়ী প্রার্থীকে তৃণমূলে যোগ দিতে চাপ? না! অন্য কোনও দল নয়। খোদ বিজেপির অন্দর থেকেই সংগঠনের জেলা সহ-সভানেত্রীর বিরুদ্ধে এমন মারাত্মক অভিযোগ ওঠায় হইচই পড়ে গেছে নদিয়ার রানাঘাট ১ নম্বর ব্লকে! সেখানকার কালীনারায়ণপুর-পাহাড়পুর পঞ্চায়েতে বিজেপির জয়ী সদস্য সমীর বিশ্বাস, কাঠগড়ায় তুলেছেন তাঁর দলেরই নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সহ সভানেত্রী পূর্ণিমা দত্তকে। 

যিনি নিজেও জেলা পরিষদ থেকে বিজেপির টিকিটে জিতেছেন! নদিয়া কালীনারায়ণপুর-পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের  বিজেপির জয়ী প্রার্থী সমীর বিশ্বাসের কথায়, আমাকে ফোন করে ডাকে। কৃষ্ণনগরের বেসরকারি লজে নিয়ে যান। সেখানে তৃণমূল নেতা ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। দলের নেত্রী আমাকে বেচে দিচ্ছিল। ওনার দল থেকে বরখাস্ত করা হোক

এবার পঞ্চায়েত ভোটে, কালীনারায়ণপুর-পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের গ্রামসভার ৩০টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১৪, বিজেপি ১২, নির্দল ৩ এবং সিপিএম প্রার্থী ১টি আসনে জয়ী হন। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে কারা বোর্ড গড়বে? তৃণমূল? না বিজেপি? তা নিয়েই টানাপোড়েন চলছে এলাকায়। এরই মধ্যে বিজেপির অন্দর থেকেই দল ভাঙানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 

রামনগর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের বিজেপির জয়ী প্রার্থী শিবু মণ্ডলের কথায়, আমাদের কাছে খবর আছে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কালীনারায়ণপুর-পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকজন বিজেপির জয়ী প্রার্থীকে তৃণমূলের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য দলেরই নেত্রী পূর্ণিমা দত্ত চক্রান্ত করেছিল

পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের আগে তৃণমূলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সহ সভানেত্রী পূর্ণিমা দত্ত। এই বিষয়ে জানতে, একাধিকবার চেষ্টা করেও বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি ও রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকারকে ফোনে পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি, শুভেন্দু অধিকারীর জেলা, পূর্ব মেদিনীপুরের কেশাপাট ও মাইশোরা পঞ্চায়েতে বিজেপির জয়ী সদস্যদের, তৃণমূলে যোগ দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কাঠগড়ায় তোলা হয় বিজেপিরই তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষকে। যদিও তাঁরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু, এবার একই রকম অভিযোগ উঠল নদিয়া-তেও! ফের ডামাডোল বিজেপির অন্দরে!