কলকাতা : মঙ্গলবার বিকেলে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যায় কলকাতার তিলজলায়। টালিখোলা মসজিদের কাছে বাড়ির ভিতরে থাকা একটি চামড়ার কারখানায় হঠাৎ আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে যায় এবং ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আগুনের তীব্রতা দেখে প্রাণ বাঁচাতে আতঙ্কে সেই কারখানার কর্মীরা দিশেহারা হয়ে বাথরুমে আশ্রয় নেন। উদ্ধারকারীরা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দু’জনের মৃত্যু হয়। আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। গুরুতর জখম অবস্থায় আরও তিন জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার জেরে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এই ঘটনাকে নিয়ে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এর রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। রিপোর্ট পাওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, ''রিপোর্ট পাওয়া গেছে। কিন্তু রিপোর্টে যা পাওয়া গেছে তা কলকাতা বা রাজ্যের জন্য অশনিসংকেত। ওই অবৈধ কারখানা বা বিল্ডিং-এ কোনও বিল্ডিং প্ল্যান নেই। ফায়ার ও ইলেকট্রিসিটি সঠিক ব্যবস্থাও ছিল না এবং অবৈধ। আমরা এই ঘটনার কারণে কতগুলো কড়া ব্যবস্থা নিয়েছি।'' আরও পড়ুন - 'নেই বেরোনোর রাস্তা..বেআইনিভাবে চলছিল কারখানা' ! তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে রিপোর্ট তদন্তকারী কমিটির
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ব্যবস্থা নিয়ে স্পষ্ট করে বার্তা দেন। তিনি জানান - ১. ''তিলজলা PS-এর কেস নম্বর ২২৬ অনুযায়ী কারখানার মালিক সহ ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ''২. ''ইলেকট্রিক সংস্থাকে স্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ''৩. ''CSC-কে বলা হয়েছে যত এই ধরণের অবৈধ কারখানা আছে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বাদ দেওয়ার জন্য, বিশেষ করে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, ইকবালপুর এই সব জায়গায়। '' ৪. ''পৌর নগর-উন্নয়ন সচিবকে বলা হয়েছে, একদিনের মধ্যে অবৈধ বিল্ডিংগুলো ভেঙে ফেলার জন্য। KMC-এর উদ্যোগে ও কলকাতা পুলিশ-এর সাহায্য নিয়ে।'' ৫. ''KMC-কে বলা হয়েছে, এই ধরণের বিপদজনক কারখানার জলের সংযোগ কেটে দিতে।''
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ''আমরা এখন জিরো টলারেন্স-এর ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা সতর্ক হওয়ার হয়ে যান। যারা বেআইনি কাজকর্ম করছেন, তাঁদেরকেও আমরা সংশোধিত হতে এবং এই ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকতে কড়া নির্দেশিকা ও উপদেশ দিচ্ছি।
