কলকাতা: ভোটের আগে নিজেদের দলের কর্মীদের কড়া নির্দেশ। এবার ভোটরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বুথভিত্তিক ভোটরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক। নিজের দলের সাংসদদের কড়া বার্তা দিয়ে তৃণমূলের সেকেণ্ড ইন কমান্ড বলছেন, ''আমাদের হাতে আর ৩ মাস আছে। SIR-এর জন্য আর ২২দিন বাকি। আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে হবে। দলের অনেক ওয়ার রুম কাজ করছে না। দলের কাজ না করলে, দল পাশে দাঁড়াবে না। সিরিয়াসলি কাজ না করলে দল রাখবে না। দল চেয়েছে বলেই সাংসদ-বিধায়ক হয়েছেন। প্রয়োজনে সাংসদরা নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ওয়ার রুম চালাতে হবে। আমরা অন্য দলের মত সাংসদদের বেতনের ৫০% টাকা নিই না।''

Continues below advertisement

এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ''সাংসদরা ২-১ দিন সংসদে যান, বাকি দিনগুলিতে নিজের কেন্দ্রে থাকুন। যাঁরা ধীরে চলো নীতি নিয়ে চলছেন, স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে জেগে উঠুন।  আমরা পরিশ্রম করেছিলাম বলেই বিজেপি নিজেদের মতো SIR করতে পারেনি। সাধারণ মানুষের কথা মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফর্ম ৭ নিয়ে ওদের চক্রান্ত আমরা রুখে দিয়েছি। একই জিনিস দিল্লি, বিহার, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানায় করেছে, ওরা ধরতে পারেনি,'' ভোকাল টনিকের সঙ্গেই কড়া বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

SIR ইস্যুতে আরও একবার কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ৭০-৮০ দিনে ১২৬ জন মারা গেলেন। সবটাই অপরিকল্পিত SIR এর জন্য। পশ্চিমবঙ্গে সবথেকে বেশি লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা। যাঁরা রাজ্য ও দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে, তাঁদেরকেও ছাড়া হয়নি। এখনও লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইনের পরেও তালিকা প্রকাশ করেনি।''

Continues below advertisement

দলের প্রত্যেক নেতা, মন্ত্রীদের ভার্চুয়ার বৈঠক থেকে অভিষেকের কড়া বার্তা, ''হোয়াটসঅ্যাপে ভোট হয় না, হোয়াটসঅ্যাপে সরকার চলে না। ১ কোটি ৬৮ লক্ষ লোকের কাছে আমাদের পৌঁছতে হবে। হিয়ারিং করিয়ে তাঁদের নাম যেন চূড়ান্ত তালিকায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশট নিয়ে আমরা আদালতে যাব। কাল ব্লকে ব্লকে মিছিল হবে, কমিশনে যাবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। কাল ব্লকে ব্লকে ধিক্কার সভা হবে।''

ভোটের আগে SIR ইস্যু নিয়ে বারবার কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।