উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : বারবার আবেদন করেও মেলেনি সুরাহা। এবার EM বাইপাসের ধারে অস্থায়ী তৃণমূল ভবনের বাড়িটি ফেরত চেয়ে থানার দ্বারস্থ হল মালিকপক্ষ। প্রগতি ময়দান থানায় দায়ের হল অভিযোগ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জুলাই মাসে বাড়িটি ছেড়ে দেবেন বলে আশ্বাস দিলেও, এখন কোনও নেতার সঙ্গেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাড়িমালিক মডার্ন ডেকরেটার্সের মালিকের ছেলে।
ভোটে হেরে রাজপাট গেছে। পরিষদীয় দলের রাশ বেরিয়ে গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে। লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদরা NDA-কে সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। ধাক্কার পর ধাক্কা খাচ্ছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এবার কি ইএম বাইপাসের ধারে অস্থায়ী তৃণমূল ভবনও ছেড়ে দিতে হবে তাঁদের ? ঘরছাড়া হবে ঘাসফুলের দল ? কারণ সেই বাড়ি ফেরত চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন মালিকপক্ষ। এদিন প্রগতি ময়দান থানায় অভিযোগ জানায় তারা।
মডার্ন ডেকরেটার্সের মালিকের ছেলে অমিত সাহা বলেন, "আমরা আমাদের প্রপার্টি ফেরত চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। যাতে আমরা ওখানে কিছু কাজ করতে পারি। বাবা-ই ফোন করেছিল। কিন্তু, কাউকে ফোনে পাচ্ছিল না।"
বাইপাসের ধারে এই বাড়িটিই গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল ভবন নামে পরিচিত। ভোটের আগেও এখানেই আসতেন তৃণমূলের বড়-মেজ-সেজ-ছোট সব নেতাই। তবে এটি একসময় একটি হোটেল ছিল। যার মালিক মর্ডান ডেকরেটার্সের মালিক মনটু সাহা। তাঁর ও তাঁর ছেলের দাবি, করোনার সময় হোটেলটি বন্ধ হয়ে যায়। সেইসময় এক বছরের জন্য এই বাড়িটি ভাড়া নেয় তৃণমূল। ২০২২ থেকে ২০২৩, এই এক বছরের জন্য চুক্তি হয়। বলা হয়, নতুন তৃণমূল ভবন তৈরি হয়ে গেলেই এই বাড়িটি তারা ছেড়ে দেবে। পরে সেই চুক্তির মেয়াদ বাড়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। তারপর প্রায় দেড় বছর কেটে গেলেও এখনও বাড়ি ফেরত পাননি তাঁরা। এমনকী বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। মন্টু সাহা বলেন, "দিদিকে বললাম, এই ব্যাপার। তা কী করি ? বললেন, আমি দেখছি। ঠিক আছে, আমরা জুন-জুলাইয়ের মধ্যে খালি করে দেব।"
রবিবার অস্থায়ী তৃণমূল ভবনে গেছিলেন বাবা-ছেলে। তাঁদের দাবি, ভোটের ফল বেরনোর পর থেকে আর কেউ এই অফিসে আসেননি। বাড়িটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় তাঁদের দাবি, অবিলম্বে বাড়ি ফেরানো হোক। কিন্তু, সরাসরি থানায় অভিযোগের প্রয়োজন হয়ে পড়ল কেন ? অমিত সাহা বলেন, "১০-১২ দিন ধরে আমরা কারো সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে পারছি না। সেই প্রপার্টিটা তো আমাদের বাঁচাতে হবে। আমি শুধু জানি, আমার প্রপার্টিটা ছেড়ে দিলে আমার খুব ভাল হয়। যাতে আমি সেখানে নতুন কিছু শুরু করতে পারি।" এখন পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয় কি না সেটাই দেখার।
