কলকাতা: মিছিলের শুরুর দিকটা একটু সমস্যা হয়েছিল। পুলিশি বাধার অভিযোগ উঠেছিল। তবে সময় গড়াতেই বদলে গেল সবটা। দলাদলি সরিয়ে দেখা গেল ভ্রাতৃত্বের ছবি। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্য়োগে হচ্ছিল রামনবমীর মিছিল। শুরুর দিকে সেই মিছিলে পুলিশি বাধার অভিযোগ ওঠে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রামনবমীর মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রাস্তায় বসে পড়েন প্রতিবাদ বিজেপি সাংসদ কার্তিক পাল। পরে অবশ্য সেই বাধা পেরিয়ে দেখা যায় এক ভ্রাতৃত্বের ছবি।
ভিএইচপির রামনবমীর মিছিলে মিষ্টি বিলি করলেন তৃণমূল নেতা কানাইয়ালাল অগ্রবাল। বাধা উঠে যাওয়ার পরে ইসলামপুরের রামনবমীর মিছিলে সামিল হয়েছিলেন প্রচুর মানুষ। আর সেই সমস্ত মানুষকে স্বাগত জানানোর জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূল নেতা কানাইয়ালাল অগ্রবাল। তার সঙ্গে রয়েছেন ইসলামপুরের ব্লক সভাপতি জাকির ইসলাম। এদিন কানাইয়ালাল অগ্রবালের গলাতেও দেখা গেল জয় শ্রীরাম লেখা ধ্বজ। মাথায় গেরুয়া পাগড়ি, এমনকি তাঁর মুখেও শোনা গেল জয় শ্রীরাম স্লোগান। যাঁরা আসছিলেন মিছিল করে, সবাইকে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন তিনি।
নিজের এই পদক্ষেপের কথা বলতে গিয়ে কানাইলাল অগ্রবাল বলেন, 'জনসংযোগের ব্যাপার নয়। এটা আস্থার ব্যাপার, ভক্তির ব্যাপার। ইসলামপুরে এমনিই একটা ঐতিহ্য রয়েছে। গোটা দেশের মধ্যে এটা তৃতীয় বৃহত্তম শোভাযাত্রা। আমাদের গর্ব যে এটা আমরা শান্তিপূর্ণভাবে উৎযাপন করি। এখানে জাতি, দল, ধর্ম নির্বিশেষে এই দিনটা উদযাপন করা হয়। আমরাও তাই করি। একটাই বার্তা দিতে চাই, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সবসময়েই বলে থাকেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। তারই রূপটা এখানে দেখবেন। আমার পাশে আমার ব্লক প্রেসিডেন্ট রয়েছেন, জেলা সভাপতি রয়েছেন। আমরা সবাই এখানে উপস্থিত আছি। সবার সঙ্গে রামনবমীর শুভেচ্ছা বিনিময় করছি। প্রত্যেক বছর এখানেই থাকি, এখানেই শুভেচ্ছা বিনিময় করি সবার সঙ্গে। সবাই আসেন, আমরা শুভেচ্ছা বিনিময় করি, এটাই এখানকার ঐতিহ্য।'
মিছিল শুরুর সময়ে বিজেপির সাংসদ কার্তিক পালের কিছু ভক্তকে আসতে না দেওয়ার প্রতিবাদে পথ অবরোধ করা নিয়ে কানাইলাল অগ্রবাল বলেন, 'আমি সেই সময়ে গৌরাঙ্গ তলাপাত্রকে ফোন করেছিলাম। উনি আমায় জানিয়েছিলেন, কিছু গুজব ওঁরা শুনেছিলেন। তবে এখন ধর্না উঠিয়ে নিয়েছি। সমস্যা মিটে গিয়েছে।'
এই শোভাযাত্রায় মিষ্টি বিলিও করেন কানাইয়ালাল অগ্রবাল।