জলপাইগুড়ি: রাজ্যে পালাবদলের পরেই একের পর এক তৃণমূল নেতার অপরাধের পর্দাফাঁস। এবার জলপাইগুড়িতে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হল ধারালো অস্ত্র। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, বিধানসভায় সর্বদল বৈঠকে ডাক পেল না 'কালীঘাট' তৃণমূল, কী প্রতিক্রিয়া কুণাল ঘোষের ?

Continues below advertisement

বারোপেটিয়ার দাপুটে তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের বাড়িতে হানা দিতেই, রড, তলোয়ার, খুকরি-সহ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করল পুলিশ। এদিকে, পুলিশি হানায় সেই সঙ্গেই প্রকাশ্যে এল তৃণমূল নেতার প্রাসাদোপম বাড়ি। বাড়ির ভিতর গ্যারাজে দেখা মিলেছে একাধিক গাড়ির। গত ৫ মে বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছিল কৃষ্ণ দাস-সহ অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই কৃষ্ণ দাসের শাগরেদ নন্দন ওরাও-সহ একাধিক গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার সেই নন্দন ওরাও-কে নিয়ে কৃষ্ণ দাসের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ঘটনার পর থেকে ফেরার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী। 

সম্প্রতি আড়িয়াদহে জয়ন্ত সিংয়ের বাড়ি ভাঙার দাবি তুলে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। আগেই জয়ন্ত সিংয়ের বাড়ি ফেলার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু সেই বাড়ি এখনও ভাঙা না হওয়ায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে। একের পর এক বেআইনি নির্মাণ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই আবহে আড়িয়াদহের একদা ত্রাস জয়ন্ত সিংয়ের বাড়ি ভাঙার দাবি তুলে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাড়ি ভাঙা হল না কেন প্রশাসন জবাব চাই, জবাব দাও। 

এলাকাবাসীর উপর অকথ্য় নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন জয়ন্ত সিং।তারপরই সামনে আসে কামারহাটির প্রতাপ রুদ্র লেনে, দুধসাদা প্রাসাদোপম এই বাড়িটি, যেটি তৃণমূলকর্মী জয়ন্ত সিংয়ের বলেই পরিচিত ছিল।অভিযোগ ওঠে, অন্য একজনের জমি দখল করে, পুকুরের একাংশ বুজিয়ে বেআইনি ভাবে তৈরি করা হয়েছে এই বাড়ি।কামারহাটির এক বাসিন্দার করা মামলার প্রেক্ষিতে অবৈধভাবে তৈরি ওই বাড়িটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। 

কিন্তু, তারপরও কখনও বাড়ি ভাঙতে সময় চেয়ে, আবার কখনও কলকাতা পুরসভার সাহায্য চেয়ে বারবার হাইকোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়ে কামারহাটি পুরসভা। শেষ পর্যন্ত গত বছরের শেষে বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, এক মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে জয়ন্ত সিংয়ের বাড়ি। সেই মতো কামারহাটি পুরসভার তরফে নোটিসও দেওয়া হয়। কিন্তু জয়ন্ত সিংয়ের 'হোয়াইট হাউসে' একটা আঁচড়ও পড়েনি। রাজ্যে পালাবদলের পর বেআইনি বাড়ি ভাঙার দাবি তুলে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।