রাজীব চৌধুরী, মুর্শিদাবাদ: ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক  হুমায়ুন কবীর বলেন, যখন ২০২৯ আসবে তখন দেখবেন, যে এদের (তৃণমূল সাংসদ) এই কর্মপদ্ধতির কোনও জায়গায় জবাব দিতে হয় ওটা আমার হুমায়ুন কবীরের জানা আছে। ফের দলের অস্বস্তি বাড়ালেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। 

আরও পড়ুন, বাংলায় তখন বর্গী আক্রমণ, বাঁকুড়ার সোনামুখীতে নিঝুম সন্ধ্যায় কালী পুজো দিচ্ছিলেন এক বৃদ্ধ, তাঁকে মারতে খড়গ তুলতেই যা হল..

টানা বৃষ্টি ও ধসে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। পরিস্থিতি পরিদর্শনে একাধিকবার সেখানে ছুটে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অর্থ সাহায্যও ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রেক্ষাপটে মুর্শিদাবাদের লালগোলার তারানগরের ভাঙন পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে সুর চড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক। ভরতপুর তৃণমূল বিধায়ক  হুমায়ুন কবীর বলেন, আজকে উত্তরবঙ্গে যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে, বন্যা হচ্ছে, মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও গিয়ে বসে আছেন। বিরোধী দলনেতাও তাদের দলগতভাবে অনেক ত্রাণ, অনেককিছু নিয়ে সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কিন্তু আজ ৩ মাস ধরে এই মুর্শিদাবাদের লালগোলার তারানগর যে অবহেলিত, এখানে কারও দৃষ্টি আছে? কিন্তু আমরা তো নির্বোধ, আমরাই তো নিজেরা নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করি।  তাই কিন্তু এই পরিস্থিতি করে পার পাচ্ছে কেন্দ্র সরকার। আর আমাদেরও কিছু জনপ্রতিনিধি আছে তারা এরকম দায় ঠেলা কথাবার্তা বলছে।

প্রায় ৩ মাস ধরে ভাঙনে বিধ্বস্ত লালগোলার তারানগর এলাকা। নদীর গ্রাসে চলে গেছে বিঘার পর বিঘা জমি, বাড়ি। প্রায় দেড়শো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। এরই মধ্যে তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মুর্শিদাবাদে পৌঁছেছেন বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। সেনিয়েও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।  ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক  হুমায়ুন কবীর বলেন, আমি শুনলাম বহরমপুরের সাংসদ (ইউসূফ পাঠান), যাকে জেতানোর জন্য সবথেকে অবদান আমার বেশি ছিল, তিনি দু'দিন আগে এখানে এসেছেন, এখানকার সাংসদকে (খলিলুর রহমান) তিনি পেয়েছেন, সাংসদ (খলিলুর রহমান) তাকে ডেকে নিয়ে এসেছেন। এসব সাংসদদের জবাব আমি ঠিক সময়মতো দেব, যখন ২০২৯ আসবে তখন দেখবেন, যে এদের এই কর্মপদ্ধতির কোন জায়গায় জবাব দিতে হয় ওটা আমার হুমায়ুন কবীরের জানা আছে। জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষের কাছে বলতে পারতেন। কিন্তু ওপেন ফোরামে সাংসদ-বিধায়কদের নিয়ে মন্তব্য করছেন, কতটা ঠিক এটা...যদিও বিজেপি তাঁর মন্তব্যে গুরুত্ব দিতে নারাজ। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ  সুকান্ত মজুমদার বলেন, উনি যদি তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করছেন তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসে আছেন কেন? তৃণমূল কংগ্রেসের দলেরই তো বিধায়ক উনি। তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস দলে আছেন কেন? আর বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে ওঁর বক্তব্যকে আমি কোনও গুরুত্বই দিচ্ছি না। সব মিলিয়ে হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যে ফের অস্বস্তিতে তৃণমূল।