কলকাতা : জাহাঙ্গির খান। পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই নাম বারবার উঠে এসেছে। তৃণমূলের জাহাঙ্গির খান মানেই হাজার বিতর্ক। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। এই ফলতায় ২৯ এপ্রিল ভোট হয়েছিল বটে। তবে একাধিক অভিযোগ আসায় ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল ২১ মে সেখানে আবার ভোট হতে চলেছে। এই দ্বিতীয়বার ভোট হওয়ার ঠিক আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূলের জাহাঙ্গির খান। ইতিমধ্যেই তাঁকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে তৃণমূলের অন্দরেই। এবার জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন এবারের বিধানসভা নির্বাচনে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্র থেকে জয়ী তৃণমূল প্রার্থী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। 

Continues below advertisement

সুজিত বসু ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেফতার ! একাধিক তোলাবাজির অভিযোগ 

ঋতব্রত বলছেন, 'জাহাঙ্গির খানের প্রশ্ন, প্রশ্নটা খুব প্রাসঙ্গিক। কেন না যে ঘটনা ঘটেছে তা পার্টির পক্ষে মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। দূর থেকে জাহাঙ্গির খানকে দেখে মনে হত কেন্দ্রীয় কোনও মন্ত্রী। আমি পার্লামেন্টে থাকাকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরও যা লটবহর দেখিনি, এমএলএ নন, এমপি নন, জাহাঙ্গির খানের... সেইরকম হচ্ছে তাঁর... মানে মেজাজ ছিল আরকি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বহু ক্ষেত্রেই এরম অনেকেই, আমার সিনিয়র নেতৃত্ব বা অনেকেই... কারও কোনও একটা কাজ হচ্ছে না কিংবা আটকে আছে, তাঁরা বললে বলা হতো ও বাবা ওটা জাহাঙ্গির না বললে হবে না। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।  জাহাঙ্গিরই শেষ কথা।' 

Continues below advertisement

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্রয়েই কি এত বাড়বাড়ন্ত হয়েছিল জাহাঙ্গির খানের? এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত বলছেন, 'কার প্রশ্রয় ছিল, কার ছিল না বলতে পারব না। তবে জাহাঙ্গির আমাদের মতো লাস্ট বেঞ্চার না। জাহাঙ্গির খান প্রিভিলেজড। এর প্রমাণ ফলতার নির্বাচন যখন ক্যান্সেল হয়নি, তখন আমরা শুনেছি, খুব সস্নেহে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গির অনুরোধ করছে একটা ইলেকট্রিক চুল্লি করে দিতে হবে ভোটের পর। ৪ তারিখের ভোটের রেজাল্ট বেরোলে অনেকের হার্ট অ্যাটাক হবে। এটা সমর্থনযোগ্য নয়। জাহাঙ্গির বলেছে বলেই করে দিতে হবে... আমরা অনেকেই তো বিভিন্ন জায়গায় ভোটে লড়েছি, পশ্চিমবঙ্গের বাকি কোনও কেন্দ্রে অন্য কোনও প্রার্থী কিছু চেয়েছেন, তার ঘোষণা কি আগে হয়ে গিয়েছে? প্রিভিলেজড একজন লোক এত বড় একটা কাণ্ড এমন সময় ঘটাল যখন পার্টির অন্য কোনও প্রার্থী দেওয়ার আর পরিস্থিতি নেই... বহিষ্কার করা প্রয়োজন ছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এক্ষেত্রেও কি জাহাঙ্গির প্রিভিলেজড? গত লোকসভা ভোটে একটা কেন্দ্রে তিনি তৃণমূলকে লিড দিয়েছিলেন। ১৫ হাজার ভোট পেয়েছিল দ্বিতীয় বিরোধী দিল। হাজার দুয়েক ভোট পেয়েছিল তৃতীয় বিরোধী দল। এগুলো গণতন্ত্রের পক্ষে স্বাস্থ্যকর লক্ষণ নয়। আমি এটা বলতে পারি, সাধারণ মানুষ, তৃণমূল কংগ্রেস করেন, আমার কাছে মেসেজ আছে, তাঁরাও এই পুষ্পা শুকিয়ে পুষ্প ঝরে পড়ায় খুশি চাপতে পারেননি।'