কলকাতা : বরো পদের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন আরেক তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। আজ আবার তৃণমূলের মুখপাত্র- র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেও চিঠি দিয়েছেন অরূপ। বুধবার সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তীর ইস্তফার পর তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

Continues below advertisement

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, 'সব ২০১১- র পর থেকে বড় বড় নেতা বনেছে। আর এদের বড় নেতা করার জন্য অভিষেকই দায়ী। মুখপাত্র হয়ে গিয়েছে। জেলায় জেলায় ঘুরেছে। বক্তৃতা দিয়ে চলে এসেছে। আরে জেলায় গেলে তো জেলার সাংগঠনিক দিকটা দেখতে হবে। আমাদের দলের অবজার্ভার তুলে দিয়ে, এই আইপ্যাক নিয়ে এসে দলটা আজ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে গেল।' 

ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূল কার্যত ছন্নছাড়া ! একের পর এক জনপ্রতিনিধি পদ ছাড়ছেন। কেউ প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এই আবহে তৃণমূলের দুই সাংসদের কাজিয়া চরমে পৌঁছেছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পর এবার সংঘাতের জল গড়াল আইনি পদক্ষেপের পথে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর অনুমতি চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। 

Continues below advertisement

'সবাই তো আর পার্থবাবুর মতো ফ্ল্যাট কিনে টাকা রাখতে পারেননি', কার প্রসঙ্গে বললেন দিলীপ ঘোষ 

ভোটের পর কালীঘাটের বৈঠকে লোকসভার মুখ্যসচেতকের পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। বদলে সেই দায়িত্ব আবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই ক্ষুব্ধ কাকলি তৃণমূলের বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী, ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যপদ-সহ দলের সব পদ থেকেই ইস্তফা দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিলেন তিনি। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর অনুমতি চেয়ে তিনি লিখেছেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার ভিতরে বারবার তাঁকে কটূক্তি করেছেন। এই নারীবিদ্বেষী আচরণ বহু মহিলা সদস্যের প্রতি করা হয়েছে এবং এর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। 

নারদকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, 'উনি চিফ হুইপ থেকে সরিয়ে আমাকে অ্যাপয়েনমেন্ট দিয়ে দিয়েছে, ওঁর রাগ প্রচুর হয়ে গেছে। আর ওকে বলব কখন, ওর অ্যাটেন্ডেন্টস এত কম, কোথায় কাকে বলব? থাকে কোথায়? হাউসেই তো থাকত না ! এই নারদাতে উনি ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন, CBI চার্জশিট ফাইল করে এখন স্য়াংশন চেয়েছিলেন, স্পিকারের কাছে। আমি চিঠি লিখব স্পিকারকে, আপনি কেন করছেন না ওঁর বিরুদ্ধে। উনি কেন প্রিভিলেজ-ক্লাসে পড়বেন?'