কলকাতা : মাত্র ২৮ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা। অথচ সেই সময়ের মধ্যেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি থেকে ক্ষমতার শিখরে পৌঁছে আবার কার্যত অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে  তৃণমূল কংগ্রেস ( All India Trinamool Congress )। পুরসভা, পঞ্চায়েত, বিধানসভা থেকে সংসদ—প্রতিটি স্তরেই ধাক্কা খেতে খেতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তৃণমূলের অন্দরেই কি শুরু হয়ে গেল ‘বড় ভাঙন’? আর সেই ভাঙনের কেন্দ্রবিন্দু কি এবার দিল্লি? রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই ভাঙতে পারে তৃণমূলের সংসদীয় দল?  শুধু জল্পনা নয়, দলের অন্দর থেকেই মিলছে তার ইঙ্গিত। আর সেই কারণেই ক্রমশ বাড়ছে চাপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee) নেতৃত্বের উপর।

Continues below advertisement

সাংসদদের বড় অংশ কি দূরত্ব তৈরি করছেন?

বর্তমানে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের মোট সাংসদ সংখ্যা ৪১। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই অন্তত ১৩ জন সাংসদ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সেই সংখ্যাটা শেষ পর্যন্ত ২০ বা তারও বেশি হতে পারে বলেও জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও এই দাবির  কোনও নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও বিরোধী শিবিরের বক্তব্য এবং তৃণমূলের অন্দরের অসন্তোষ—দুই মিলিয়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ে (Sukhendu Sekhar Ray) র মন্তব্য নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “এত দ্রুত যে বিধানসভাতে ৬০ জন MLA চলে যাবেন, এটা আমি কখনও দেখিনি। এটা খুব তাড়াতাড়ি ঘটতে চলেছে লোকসভাতেও।” দলের এক প্রবীণ সাংসদের মুখে এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, এর মাধ্যমে কার্যত স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে যে দলের অন্দরে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

বিজেপির দাবি, “ফোন আসছে”

এই পরিস্থিতিতে আক্রমণ আরও তীব্র করেছে বিজেপি ( Bharatiya Janata Party )। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় ( Locket Chatterjee ) বলেন, “তৃণমূল যার হাতে ছিল, তার হাত থেকে তৃণমূলের ফুল চলে গেছে। দেখুন একটা তৃণমূল থেকে কতগুলো উপদল তৈরি হয়।” আবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ( Samik Bhattacharya )র দাবি “ফোন আসছে। তৃণমূল থেকে আসছে। ভোটের আগে এসেছে। ভোটের পরে আসছে।”   

Continues below advertisement

পরপর পদত্যাগে বাড়ছে জল্পনা

দলের ভিতরের অস্বস্তির আবহ আরও স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পদত্যাগগুলিতে। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Hakim ) ।  তার আগের দিন বিধাননগরের মেয়র পদ ছেড়েছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী ( Krishna Chakraborty)।  যদিও এই পদত্যাগগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে, রাজনৈতিক মহলের মতে এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর সাংগঠনিক টানাপোড়েন।

‘কালীঘাট বনাম বিদ্রোহী শিবির’?

তৃণমূলের অন্দরেই এখন নীরব বিভাজনের ছবি দেখছে রাজ্য। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত গোষ্ঠী, অন্যদিকে ক্রমশ শক্তিশালী হতে থাকা অভিষেকে অসন্তুষ্ট শিবির। দলের একাংশের আশঙ্কা, যদি সংসদীয় দলে বড় ভাঙন হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বাংলার সংগঠনেও তার সরাসরি অভিঘাত পড়বে। 

দলের ভিতরে অসন্তোষ দ্রুত বাড়ছে। সাংসদদের একাংশ বিকল্প রাজনৈতিক রাস্তা খুঁজছেন। জল্পনা, বিরোধীদের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে তৃণমূলের বহু সাংসদ। তাই বাদল অধিবেশনের আগেই দিল্লিতে বড় রাজনৈতিক নাটকীয়তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।সংসদে তৃণমূলের কতজন বিদ্রোহী?

আরও পড়ুন :Annapurna Yojna র ফর্মে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে কী কী তথ্য দিতে হবে? পরিবারের অন্যদের ব্যাঙ্ক ডিটেলসও দিতে হবে?