কলকাতা: দিল্লিতেও বিদ্রোহের সুর তৃণমূল সাংসদদের গলায়। এবার আরও সুর চড়ালেন সাংসদ শতাব্দী রায়। জানালেন, আলাদা ব্লক তৈরি করে কাজ করবেন তাঁরা। তৃণমূলের ‘টিমে’ আর নেই বলে জানিয়ে দিলেন। (Satabdi Roy on TMC)
এবিপি আনন্দ-কে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে আরও সুর চড়ালেন শতাব্দী। (TMC News)
প্রশ্ন: আপনাদের পরিকল্পনা কী?
উত্তর: পরিকল্পনা একটা ব্লক বানিয়ে থাকা এবং সেখান থেকে কী করা হবে, ভবিষ্যতে ঠিক করা হবে।
প্রশ্ন: NDA-র পার্ট হিসেবে?
উত্তর: NDA-র পার্ট হিসেবে।
আরও পড়ুন: তিনিও কি ‘নতুন’ তৃণমূলে? না কি মমতার পাশে থাকবেন? মুখ খুললেন তারকা সাংসদ দেব
প্রশ্ন: মানে আপনারা তৃণমূলের পক্ষে আর থাকবেন না?
উত্তর: মানে তৃণমূলের মেন টিম যদি থাকে, সেই টিমে আমরা নেই। আমরা আলাদা ভাবে কাজ করতে চাই। সেটা আমাদের দল, যাঁরা আছেন, ঠিক করবেন, তৃণমূলেরই ব্লক হিসেবে কি না। তবে ব্লক আলাদা।
প্রশ্ন: NDA-র পার্ট হিসেবে আলাদা ব্লক! এরকম একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ, একসঙ্গে একজোট হয়ে এটা সম্ভব হল কী করে? যেখানে উপস্থিত আছেন মুখ্যমন্ত্রী?
উত্তর: এখনকার মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত আছেন! ও। যদি ভেবে দেখেন, সবাই আলাদা জায়গা থেকে...২৮ জনের মধ্যে ৮ জন বলে বলতে পারতেন ৮ জন ভুল বা ২ জন হলে বলতেন ২ জন ভুল। সংখ্যাটা যখন এত বেশি, তাহলে তাদের তরফেও ঠিক ব্যাপার থাকছে। এতগুলো লোক যখন একটা ঘটনাকে সাপোর্ট করছে না, একটা সিদ্ধান্তে যাচ্ছে, কেউ কারও মাসতুতো ভাই বা পিসতুতো বোন নয়। সবাই আলাদা জায়গা থেকে এসেছে। তার পরও যখন সিদ্ধান্তগুলো একই নিচ্ছে, তাহলে নিশ্চয়ই যেখানে থেকে যাচ্ছে, সেখানের প্রতি অভিযোগ, অভিমান থাকছে, ক্ষোভ থাকছে...প্রত্যেকে প্রত্যেকের কারণে গিয়েছে। প্রত্যেকের ক্ষোভ আলাদা হতে পারে, অভিমান আলাদা হতে পারে, অভিযোগ আলাদা হতে পারে। কিন্তু দল কথা শোনে না, সেটায় সবাই এক। এই একটি বিষয়ে সবাই একমত বা কথা বলতে দেয় না। আগে কী কী ঘটেছে ভুলে যান। আমার একটা প্রশ্ন শুধু, ৪ তারিখ হারের পর আমাদের যখন ডাকা হল, কী জন্য?
আরও পড়ুন: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কি হবে? প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেব বললেন, 'শুভেন্দুদা বলেছেন...'
প্রশ্ন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে?
উত্তর: হ্যাঁ। এমন নয় যে ১৫০০ বা ১৫০০০ লোক ছিল। ১৫-২০ জন ছিলাম আমরা সাংসদরা। হারের পর ডাকা মানে তো অ্যানালিসিসের কারণে, যে কেন হারলাম? তোমার এলাকায় কী অবস্থা? কেন হারলাম, কী মনে হয়? হারে পর এত বড় বিপর্যয়, রাত্রিবেলা সবাই রাজা-রানি, সকালবেলা উঠে কেউ নেই সেখানে। সেই বিপর্যয়ের ১০ দিন পর মিটিং হল, তখন তা অ্যানালিসিস নয়। কিছুই নয় সেটা। যে দু'একজন বলার চেষ্টা করল, তাদের বলা হল, 'অত বোলো না, লিখে পাঠাও'। এখনও লিখে পাঠানোর সময় আছে কারও! আমার অভিযোগ সেখান থেকে শুরু। আগের অভিযোগ ভুলে যান। আপনি যদি বলেন, এতদিন বলেননি কেন? কিন্তু সেই দিন আমার যে অভিযোগ তৈরি হয়েছে, দলের প্রতি যে রাগ তৈরি হয়েছে, তার ফল এটা। এত বড় হারের পরও একবারও বিশ্লেষণ হচ্ছে না কেন হারলাম!
প্রশ্ন: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তো স্বীকারই করছেন না!
উত্তর: স্বীকার তো করছেন না! ঠিক আছে চ্যানেলের কাছে হার স্বীকার করছে না। কিন্তু নিজেদের কাছে তো স্বীকার করতে হবে! ডাক্তারের কাছে গেলে রোগটা তো বলতে হবে! এই জিনিসটা আগেও দরকার ছিল। যখন ভোটের আগে প্রার্থী ঠিক হচ্ছে, এলাকায় কী সমস্যা হচ্ছে, কাকে নিলে বুল হবে- সেই আলোচনাও হবে না। যারা বলতে চেয়েছিল, বলছে চিঠি লেখো। লক্ষ লক্ষ চিঠি কি হয়! আমাকেও বলল চিঠি লেখো। আমি বললাম, ১৭ বছর চিঠি লিখেছি, আর নয়। আমি সত্যি বলছি, আমার যদি চেঞ্জ হয়ে থাকে, যা অভিযোগ আমার সিনেমা রিলিজ থেকে যদি মনে করি কী কী অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি আমি ভুলে গিয়েছি। আমার একটা কথা মনে আছে, ৪ তারিখের পর যখন আমরা দেখা করেছি, কেন একবারও আলোচনা হল না হারলাম কেন? আপনি যদি বলেন সুখের পায়রা, আমাদেরও দলের প্রতি স্ট্রাগল আছে। এত বছর দলের প্রতি একটু হলেও অবদান আছে। সেখানে একবারও জানতে চাওয়া হল না! আমি অন্য বিধায়কদেরও জিজ্ঞেস করেছি। কিন্তু কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি কেন হেরেছি। এটা তো সবচেয়ে প্রথম। যদি বলেন, এককথায় কেন, আমি বলব, এই কারণে আর থাকলাম না।
