পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা: হাজিরা এড়িয়ে ফের সময় চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিকেল ৫ টা পর্যন্ত সময় দেওয়া ছিল, কিন্তু তৃতীয় শমনেও হাজিরা এড়ালেন তিনি। ভবানীভবনে তিনি যাচ্ছেন না, আবারও সময় চেয়েছেন তিনি। হাইকোর্টে গিয়েছি, তাই ভবানীভবনে যেতে পারছি না, এই মর্মে ডেডলাইনের শেষের কিছুক্ষণের আগে সিআইডি-কে চিঠি পাঠিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এবার কী পদক্ষেপ নেবে সিআইডি ? 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, এবার কাদের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করতে পারবে CBI ? বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

Continues below advertisement

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ বিকেল ৫ টার সময় ভবানীভবনে তলব করা হয়েছিল, বিধানসভায় সই জালিয়াতি মামলায়। সিআইডি সূত্রে জানতে পারা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে কিছুক্ষণ আগেই একটা চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন, পাশাপাশি তিনি রাজ্যের বাইরের রয়েছেন, সেই জন্য যেতে পারছেন না। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয় সিআইডি, সেটা সময় বলবে। 

কালীঘাট, ৩০ বি হরিশ চ্য়াটার্জি স্ট্রিট, কদিন আগে পর্যন্ত রাজ্য়ের সবচেয়ে হাই প্রোফাইল ঠিকানা ছিল এটি। আর মঙ্গলবার সেখানেই তল্লাশি অভিযান চালাল সিআইডি। সই জালিয়াতিকাণ্ডে এক দিনে, একসঙ্গে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বাড়ি লাগোয়া পার্টি অফিস এবং ক্য়ামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অফিসে অভিযান চালাল রাজ্য় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। টানটান উত্তেজনা, নাটকীয় পরিস্থিতি। সিআইডি থেকে কালীঘাট থানার পুলিশ, শেষ অবধি নামাতে হল কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রীর বাড়ি লাগোয়া পার্টি অফিসে ঢুকল সিআইডি।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ, কালীঘাটে ৩০ বি হরিশ চ্য়াটার্জি স্ট্রিটের এই বাড়ির সামনে পৌঁছে যায় সিআইডি। ৩০-এর বি হরিশ চ্য়াটার্জি স্ট্রিটের যে বাড়ি, মমতার বাড়ির উল্টোদিকে তৃণমূলের পার্টি অফিস। সেখানে সিআইডি-র ৩০ জনের টিম এসে পৌঁছেছে। কিন্তু, শুরুতেই দফায় দফায় বাধার মুখে পড়তে হয় সিআইডি-র অফিসারদের!তদন্তকারী দলকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেন, তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্য়সভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। 

প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে এই টানটান পরিস্থিতি। সিআইডির কড়া অবস্থানের সামনে একটা সময় পিছু হঠতে বাধ্য় হন তৃণমূল নেতা। বাধা উপেক্ষা করে ভিতরে ঢোকেন সিআইডি অফিসাররা। প্রতিটা মুহূর্তের ভিডিওগ্রাফি করা হয়। তৃণমূল সাংসদ  কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, ওঁরা এসেছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অফিস সার্চ করার জন্য়। ওদের বক্তব্য় হচ্ছে, যেহেতু  ৩০ বি হরিশ চ্য়াটার্জি স্ট্রিটে রেজোলিউশন নেওয়া হয়েছে, অতএব, রেজোলিউশনের কপি এখানে আছে। সিআইডি-র আরেকটা টিম পৌঁছয়, ক্য়ামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অফিসে, সঙ্গে ছিল শেক্সপীয়র সরণি থানার পুলিশ।

তবে, সেখানেও প্রথমে তাঁদের অসহযোগিতার সম্মুখীন হতে হয় বলে অভিযোগ।সিআইডি সূত্রে দাবি, তাঁরা অফিসে গিয়ে দেখেন, দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বাইরে বেশ কিছু জুতো রয়েছে। অর্থাৎ, অফিসের কর্মীরা ভিতরে ছিলেন। কলকাতায় যখন সিআইডি-র স্ক্য়ানারে কালীঘাট, ক্য়ামাক স্ট্রিট। সেদিনই দিল্লিতে সনিয়া গান্ধীর বাড়িতে ছুটে যান মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়। ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে উত্তপ্ত রাজ্য় রাজনীতি। এরইমধ্য়ে সিআইডি-র দুই হাইপ্রোফাইল ঠিকানায় এই অভিযান নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।