কলকাতা: ফের উত্তপ্ত পাক-অধিকৃত কাশ্মীর। নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে। কমপক্ষে ৩০ জনের মৃত্য়ুর খবর আসছে। আহত হয়েছেন ২০০-রও বেশি মানুষ। সরকার বিরোধী আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ। আন্দোলনকারী এবং সেনার মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষও বাধে বলে জানা গিয়েছে। এর পরই আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে খবর। (Clash in PoK)
পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে যে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি ছিল এতদিন, সম্প্রতি তা নিষিদ্ধ করে দেয় পাকিস্তান সরকার। অথচ সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করত ওই জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অভিযোগ-অনুযোগ জানানো যেত তাদের কাছেই। সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেই পথে নেমেছিলেন সাধারণ মানুষ। উপত্যকার অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব ছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির হাতেই। (Pakistan Occupied Kashmir Deaths)
আরও পড়ুন: কিলবিল করছে সাপের ছানা, একটি বা দু’টি নয়, ২৭টি, বাড়ির চৌবাচ্চার ভিতর উঁকি দিতেই…
সেখানকার পুলিশের দাবি, এদিন হাসপাতালের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। সেখানকার মর্গে এক আন্দোলনকারীর দেহ রাখা ছিল। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হটানোর চেষ্টা করে,যাকে ঘিরে পরিস্থিতি তেতে ওঠে। পাকিস্তান পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের কাছে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পেট্রোল বোমা এবং আরও অস্ত্রশস্ত্র ছিল। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশই নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। হাসপাতালের মর্গে যে দেহ রয়েছে, তাঁরও মৃত্য়ু হয় পুলিশের গুলিতেই।
পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন নিয়েও সকলকে পথে নামতে আহ্বান জানিয়েছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। আগামী ২৭ জুলাই নির্বাচন সেখানে। তার আগে ১২টি আসন থেকে সংরক্ষণ তুলে নেওয়ার দাবি তোলা হয়। তাদের দাবি ছিল, সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন লোকজনই সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাই সংরক্ষণ তুলে দেওয়া উচিত। যদিও পাকিস্তান সরকারের দাবি, জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। সেই নিে টানাপোড়েনের মধ্য়েই সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় শুক্রবার জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান সরকার। ৯ জুনের আগে অধিকৃত কাশ্মীর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলা হয় দেশ-বিদেশের পর্যটকদের।
গত দু'বছরে বার বার রক্তাক্ত হয়েছে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর। আটা, বিদ্য়ুতের দাবিতে আগেও প্রতিবাদীদের আহ্বান জানিয়েছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। সেই নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তবে এবার প্রাণ হারাতে হল বহু মানুষকে।
