কলকাতা: 'মতুয়াদের আবেগ নিয়ে খেলা করছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী এসে মতুয়াদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, একটাও কথা রাখেননি। একটাও মতুয়ার নাম ভোটার লিস্টে বাদ যাবে না।', ঠাকুরনগরে গিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ অভিষেকের।
আরও পড়ুন, ''কাল আমায় খুন করতে এসেছিল...'' ! বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রানাঘাটের সভার পরেই, তিনি ঠাকুরনগরে পৌঁছে যান। যেখানে তিনি পুজো দেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মতুয়াদের আবেগ নিয়ে, রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে, তাঁদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, আমি তাই বলে এসেছি, প্রধানমন্ত্রী এসে, যে কথাগুলি বলে গেছেন, একটাও কথা রাখেননি। প্রধানমন্ত্রী যে কথাগুলি বলে গিয়েছিল, রানাঘাট বা বনগাঁয় সবা করতে এসে, প্রধানমন্ত্রী যে কথাগুলি বলে গিয়েছিলেন, ধরুন ওই NH 12 এর রাস্তায় বড় জাগুলিয়া অবধি সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে, কল্যাণীতে এইমস, যা এখনও পুরোপুরি ফাংশনাল হয়নি। মতুয়া ভাইয়েদের নিস্বার্থ নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা, তাঁরা যদি অবৈধ হয়, আপনিও অবৈধ। আর এখন নাগরিকত্ব করতে গেলে, পাসপোর্টের কপি ভিসার ডিটেলস, ..হয় নিস্বার্থ নাগরিকত্ব দেবেন, নয় গদি ছাড়বেন। '
বিধানসভা ভোটের আগে এসআইআর নিয়ে মতুয়াদের একাংশের মধ্য়ে উদ্বেগ!অস্বস্তিতে বিজেপি!এই আবহে ঠাকুরনগরের মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে গেলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যু উস্কে দিয়ে বিজেপির অস্বস্তি বাড়ানোর চেষ্টা করলেন। অভিষেক বলেন, বিজেপি ১১ বছর ক্ষমতায়। এই দেব, তাই দেব। বলেছিলনা নিঃশর্ত নাগরিকত্বের কথা? আজকে আওয়াজ তুলতে হবে। হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব, নইলে মোদি গদি ছাড়ো। হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব,নয় অমিত শাহ গদি ছাড়ো। হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব, নইলে শান্তনু ঠাকুর দূর হঠো।
বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, এরা কি মতুয়াদের ঠেকা নিয়ে বসে আছে নাকি? এরা বিভ্রান্ত করছে। নিঃশর্ত নাগরিকত্ব কাকে বলে আর শর্ত নাগরিকত্ব কাকে বলে? সেটা আগে এই অশিক্ষিত গুলোকে জেনে আসতে বলুন। মতুয়া অধ্যুষিত তাহেরপুরে দাঁড়িয়েই আবার কমিশন ও এজেন্সিকে এক বন্ধনীতে এনে সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ শানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, ভাবছে একদিকে ইসি-কে লাগিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নেব, আরেকদিকে ইডি-কে লাগিয়ে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করব। বাংলার মানুষ বিজেপির জল্লাদদের কাছে আর দিল্লির জমিদারদের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।
একদিকে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আসার জন্য পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ, অন্যদিকে মতুয়াবাড়িতেই বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের চারপাশে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনীর বজ্র আঁটুনি। শুক্রবার গাইঘাটার মতুয়াবাড়িতে দেখা গেল বেনজির নিরাপত্তা বলয়। নাটমন্দির থেকে শান্তনু ঠাকুরের ঘর, মতুয়া ঠাকুরবাড়ির চারিদিকে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরই মধ্যে বিকেলে ঠাকুরনগরের মতুয়াবাড়িতে পুজো দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়।