সুদীপ চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুর: বাবা এবং বড় দাদার হাতে খুন হল মেজো ছেলে (Murder Case)। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur) সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভক্তিয়াডাঙ্গী এলাকায়। মর্মান্তিক ঘটনায় গ্রেফতার  করা হয়েছে ৩ জনকেই। প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবকের মৃতদেহ মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ (Police)। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০-২২ দিন আগে থেকে সমীর বালা নামে এক যুবক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু গত দিন পাঁচেক আগে ওই এলাকায় ওই বাড়ির পাশ থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে থাকে। এমন পরিস্থিতি দেখে প্রতিবেশীরা ঘটনার কথা জানান চোপড়া থানার পুলিশকে। পুলিশ ঘটনার কথা জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। যে জায়গা থেকে দুর্গন্ধ বেরোনো শুরু করে, সেখানে খোঁজাখুঁজির পর দেখা যায় প্রচুর পোল্টি মুরগি সেই স্থানে পোতা হয়েছিল।  পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছিল কোনও এক অজ্ঞাত কারণে তাঁদের পোল্ট্রি ফার্মের ৬০০-৭০০ মুরগি মারা যায়। তাই তাঁরা সেখানে মুরগিগুলিকে মাটি চাপা দিয়ে রাখে। এরপরেও চলে পুলিশের তদন্ত।জানা গিয়েছে, প্রতিবেশীদের সূত্রে খবর সংগ্রহ করে পুলিশ সমিরের  বাবা হরষিত বালা এবং বড় ছেলে খোকন বালা ও তার মেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চোপড়া থানায় নিয়ে আসে। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আরও পড়ুন, 'ইডি-সিবিআই-কে তথ্য পৌঁছে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ', বিস্ফোরক সৌমিত্র খাঁ

জানা গিয়েছে, তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করে পরিবারের মেজো ছেলে সমির বালা মদ্যপান করে প্রায়শই জমিজমার জন্য বাবাকে বিরক্ত করতো। করতো মারধোরও। আর এই বিরক্ত থেকে মুক্তি পেতে বাবা এবং তার বড় ছেলে মেজ ছেলেকে হত্যা করে বাড়ির কিছুটা দূরে মাটিতে পুঁতে দেয়। সোমবার দুপুরে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবকের মৃতদেহ মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করে। গ্রেফতার করা হয়েছে তিন জনকেই। পুলিশ মৃতদেহটিকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যে একের পর এখ খুনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি স্ত্রী-কে খুন করে আত্মঘাতী হন স্বামী। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আনন্দপুর থানার টুকুরিয়া পাট এলাকায় গত সপ্তাহেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। গভীর রাতে ছুরি দিয়ে কোপ মারলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে কেকা কলা। স্ত্রী,কেকা কলা মারা যাবার পরেই বাড়ীর বাইরে থেকে গেটে শিকল তুলে দেন তিনি। এরপর গলায় দড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হন।