সুদীপ চক্রবর্তী, উজ্জ্বল মুখোপাধ্য়ায় ও ঝিলম করঞ্জাই, উত্তর দিনাজপুর: তৃণমূল সরকারের কার্নিভাল 'বয়কট' খোদ তৃণমূল বিধায়কের ! তৃণমূল বিধায়কের নিশানায় খোদ তৃণমূলের হাতে থাকা পুরসভা। পুর পরিষেবায় ব্যর্থতার অভিযোগে কার্নিভাল বয়কটের ডাক।
আরও পড়ুন, পুজো মিটতেই এবার ভোটের প্রস্তুতি শুরু, ২৬-র নির্বাচনে কি একা লড়বে কংগ্রেস ?
রায়গঞ্জ পুরসভার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ খোদ তৃণমূল বিধায়কের। পুর-ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পুজোর কানির্ভাল 'বয়কটের' ঘোষণা। 'পুরসভা-প্রশাসনের চরম অবহেলায় থমকে গেছে শহরের উন্নয়ন। নগরোন্নয়ন দফতর থেকে ৭ কোটি, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর থেকে ১০ কোটি। সরকার থেকে টাকা পেয়েও পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যর্থ পুরসভা-প্রশাসন। পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়ন নিয়ে পুরসভার উদাসীনতায় ক্ষিপ্ত জনগণ। উন্নয়ন-নাগরিক সুরক্ষাকে উপেক্ষা করে শুধু উৎসবের নামে প্রদর্শনী। পুজো কার্নিভাল থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখে বিস্ফোরক পোস্ট কৃষ্ণ কল্যাণীর।
রবিবার রেড রোডে রাজ্য সরকারের দুর্গাপুজোর কার্নিভাল। জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। তার আগই শনিবার জেলায় জেলায় হল পুজো কার্নিভাল। আর সেখানেই ফের সামনে চলে এল তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব!পুর-পরিষেবায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে কার্নিভাল থেকে নিজেকে বিরত রাখলেন রায়গঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। শনিবারই উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে দুর্গাপুজোর কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। এর আগে ফেসবুকে রায়গঞ্জের বিধায়ক লেখেন, শহরের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রায়গঞ্জ পুরসভা ও প্রশাসনের চরম অবহেলার কারণে শহরের পরিচ্ছন্নতা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন সম্পূর্ণভাবে থমকে গেছে। জলাবদ্ধতা, নোংরা রাস্তাঘাট, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা আজ আমাদের সকলের চোখে পড়ছে। ২০১৭ সালে শেষবার নির্বাচন হয় রায়গঞ্জ পুরসভায়। ২৭টি ওয়ার্ডের সবক'টিতে জেতে তৃণমূল।২০২২ সালে পুরসভার মেয়াদ পেরোলেও আর হয়নি নির্বাচন।
রায়গঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্য়ান, তৃণমূল নেতা সন্দীপ বিশ্বাসকেই প্রশাসক করা হয়েছে। সেই পুরসভার বিরুদ্ধেই সোশাল মিডিয়ায় সরব হলেন তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণ কল্য়াণী। তিনি লিখেছেন, আমাদের সরকার নগর উন্নয়ন বিভাগ থেকে ৭ কোটি টাকা, উত্তর বঙ্গ উন্নয়ন বিভাগ থেকে ১০ কোটি দিয়েছে রায়গঞ্জে পুরসভা এলাকার পরিকাঠামোভাবে উন্নয়নের জন্য, কিন্তু রায়গঞ্জ পুরসভা এবং প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে আছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা উন্নয়ণের পরিকাঠামো দিকে রায়গঞ্জ পুরসভার উদাসীনতা ও নিম্নমানের পরিষেবা থেকে। এই অবস্থায় শহরের উন্নয়ণ ও নাগরিক সুরক্ষাকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র উৎসবের নামে প্রদর্শনী তে সামিল হওয়া অনুচিত। তাই আমি কৃষ্ণ কল্যাণী, রায়গঞ্জের বিধায়ক হিসেবে, এই বছরের পূজা কার্নিভালে নিজেকে বিরত রাখছি। রায়গঞ্জ তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, যেভাবে নালা-নর্দমা প্লাবিত, মানুষ বাড়ি থেকে বেরোতে পারছে না। সেখানে আমি কার্নিভালে যাব। অন্তরের অন্তস্থল থেকে মানতে পারছি না। টাকা সঠিক সময়ে খবর হলে এই পরিস্থিতি হত না। মানুষ ক্ষিপ্ত। শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মনে হচ্ছে সিস্টেম কোলাপ্স করেছে। রায়গঞ্জ পুরসভা তৃণমূল মুখপাত্র ও পুর প্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, হঠাৎ করে এটা উদয় হল কেন আমি জানি না। আমি জানিনা হঠাৎ করে কারও বোধোদয় হল, হঠাৎ করেই একটা কিছু মনে এল আর ফেসবুকে দিয়ে দিলাম। এটা হতে পারে না। উনি কোথায় আছেন? কেন উনি কার্নিভালে আসতে পারলেন না? সেটাও মানুষকে জানাতে হবে।
তৃণমূল বিধায়কের ক্ষোভকে হাতিয়ার করতে দেরি করেনি বিজেপি। ২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণ কল্য়াণী। পরে আবার ফেরেন তৃণমূলে। তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জিতে ফের বিধায়ক হন। এখন সামনে আরেকটা বিধানসভা ভোট। তার আগে কৃষ্ণ কল্য়াণীর ক্ষোভ কি বিশেষ ইঙ্গিতবাহী? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।