কলকাতা: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ সিমেস্টারের ইতিহাসের প্রশ্নপত্র ঘিরে তুমুল বিতর্ক। প্রশ্নপত্রে বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। চাপের মুখে দুঃখপ্রকাশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষর। পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার কাছ থেকে চাওয়া হল ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট।
বাংলার বীর বিপ্লবীদের সন্ত্রাসবাদী বলছে বাংলারই সরকারি বিশ্ববিদ্য়ালয়। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্র বিতর্কে তুঙ্গে তরজা। ঘটনায় চুপ বিভাগীয় প্রধান। সরানো হল UG বোর্ড অফ স্টাডিজের চেয়ারম্যান, মডারেশনের টিমের সদস্যকে। এদিন উপাচার্য জানিয়েছেন, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এই ভুলের কারণ খোঁজার চেষ্টা চলছে। খবর পেয়েই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন কোন ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত, তাঁদের জবাব চাওয়া হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ামকের কাছ থেকেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। এদিন উপাচার্য বলেন, "এই ত্রুটিকে সাধারণ ত্রুটি হিসেবে মনে করছি না। এই ভুলকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এই খবর পাওয়া মাত্রই পরীক্ষা নিয়ামককে ফোন করে বলি। ওঁর থেকে রিপোর্ট চাই। প্রাথমিকভাবে রিপোর্ট দিয়েছেন। UG বোর্ড অফ স্টাডিজের চেয়ারম্যানের থেকেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এই ঘটনার জন্য দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। আমি ব্যক্তিগতভাবে লজ্জিত এবং আহত।''
১৯৩১ সালের ৭ এপ্রিল, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেমস পেডিকে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে গুলি ছুড়ে হত্যা করেন বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্ত, জ্যোতিজীবন ঘোষ। একবছর পর ১৯৩২ সালের ৩০ এপ্রিল, আর এক ম্যাজিস্ট্রেট রবার্ট ডগলাসকে জেলা বোর্ডের অফিসে ঢুকে হত্যা করেন বিপ্লবী প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্য, প্রভাংশুশেখর পাল। পরের বছর ১৯৩৩-এর ২ সেপ্টেম্বর, মেদিনীপুরের একটি মাঠে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বার্নাড ই জে বার্জকে খুন করে বিপ্লবী অনাথবন্ধু পাঁজা, মৃগেন দত্ত, ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায় ও নির্মলজীবন ঘোষ। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রশ্নপত্রে লেখা হয়েছে, ‘মেদিনীপুরের তিনজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নাম করো, যাঁরা সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নিহত হন?‘ ১২ নম্বর প্রশ্নে বিপ্লবীদের 'সন্ত্রাসবাদী' বলে উল্লেখ করা নিয়েই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
এবিষয়ে শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেন, "এটা দুর্ভাগ্যজনক এবং বিস্ময়কর। যিনি প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন, তিনি কী ভাবেন, উপাচার্য ব্য়াখ্যা চাইতে পারেন। ভারতের যে বিশাল জনমত, যে বিপ্লবীরা সন্ত্রাসবাদী নন, তাঁরা দেশপ্রেম। ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরার মতো স্বাধীনতা সংগ্রামী দিয়েছে মেদিনীপুর। সেখানে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপ্লবীদের সন্ত্রাসবাদী বলা হবে, আমাদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে এই ঘটনা। যে অধ্যাপক প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন, নিশ্চয়ই তাঁর কাছে ব্য়াখ্যা চাইবেন উপাচার্য। সেই ব্যাখ্যাও শোনা দরকার। তাঁর সেই ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের বোধ ও বিচারের বিরুদ্ধে গিয়েছে। তাঁর লজ্জিত হওয়া দরকার। "