কলকাতা: ওয়াকফ বিরোধিতায় অশান্ত হয়ে ওঠে জঙ্গিপুর (Jangipur Clash)। প্রাণ বাঁচাতে দোকানে আশ্রয় নিল পুলিশ। তাড়া খেয়ে দোকানে ঢুকে শাটার নামাতে অনুরোধ করেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, হাত জোড় করে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন উর্দিধারীরা।
প্রাণ বাঁচাতে দোকানে আশ্রয়: সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঘিরে জঙ্গিপুরে তুলাকালাম কাণ্ড ঘটে। পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষের পরিস্থিতি হয়। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় যখন জঙ্গিপুর জ্বলছে, তখন পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুসলিমরা। ইমরান হকের দোকানেই আশ্রয় নিয়েছিলেন পুলিশ কর্মীরা। ব্যবসায়ীর দাবি, হাত জোড় করে প্রাণভিক্ষা চান উর্দিধারীরা। দোকানের শাটার নামাতে অনুরোধ করেন তাঁরা। উন্মত্ত জনতা দোকানে চড়াও হলেও পুলিশ কর্মীদের প্রাণরক্ষার জন্য শাটার খোলেননি ব্যবসায়ী। তার জেরে তাঁর দোকানেও ভাঙচুর চলে।
টানা ১৩ ঘণ্টা বিতর্ক এবং ভোটাভুটির পরে গত বুধবার মধ্যরাতের পর লোকসভায় পাস হয় ওয়াকফ সংশোধনী বিল, ২০২৫। সংসদের দুই কক্ষে পাস হওয়ার পর সই করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। আইনে পরিণত হল ওয়াকফ সংশোধনী বিল, ২০২৫। কেন্দ্রের দাবি, এর ফলে সার্বিক ভাবে মুসলিমদের উন্নতি হবে। ক্ষমতায়ন হবে মুসলিম মহিলাদের। কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, এর আইন ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতাকে খর্ব করে মুসলিমদের অধিকার হরণ করবে। এ নিয়ে প্রথম থেকেই তীব্র বিরোধিতা করে আসছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, মোদি সরকারের এই উদ্যোগ ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতাকে খর্ব করে মুসলিমদের অধিকার হরণ করবে।
গতকাল জঙ্গিপুরে অশান্তির প্রেক্ষিতে, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ ও সুতি থানা এলাকায়, মঙ্গলবার সন্ধে ৬টা থেকে, ৪৮ ঘণ্টার জন্য় BNS-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। জঙ্গিপুর মহকুমায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। এদিকে রাজ্য় পুলিশের তরফে পোস্ট করে জানানো হয়, জঙ্গিপুরে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিল, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক। যারা হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্য়বস্থা নেওয়া হবে। যারা গুজব এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সবাইকে অনুরোধ, গুজব ছড়াবেন না। শান্ত থাকুন।