রাজীব চৌধুরী, বহরমপুর: আর অশান্তির অভিযোগ নয়, পুরভোট (WB Municipal Polls 2022) চলাকালীন এ বার বহরমপুরে (Berhampore Municipal Polls)মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়াল তৃণমূল (TMC) এবং বিজেপি (BJP)। কৃষ্ণনাথ কলেজের সামনে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। চলে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি এবং মারধর। অশান্তি চলাকালীন তাতে জড়িয়ে পড়েন দুই মহিলাও। পরিস্থিতি সামাল দিতে নেমে কার্যত অসহায় দেখায় সেখানে মোতায়েন এক বন্দুকধারী পুলিশকর্মীকে।
রবিবার বকেয়া পুরভোট ঘিরে সকাল থেকেই অশান্তি, হিংসার খবর উঠে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে দুপুরে আচমকাই কৃষ্ণনাথ কলেজের সামেন ধুন্ধুমার শুরু হয়। পরস্পরের দিকে তেড়ে যান দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। শুরু হয় ধস্তাধস্তি, হাতাহাতি। ঝামেলার মধ্যে ছুটে যান দুই মহিলাও।
প্রকাশ্য রাস্তায় এমন অশান্তিতে অস্বস্তিতে পড়ে পুলিশ। বন্দুকধারী এক পুলিশকর্মী দু’পক্ষকে সংযত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকে ঠেলে সরিয়েই চলে খণ্ডযুদ্ধ। এলাকায় একটি বুথের বাইরে এই ঘটনা ঘটে। ফলে সেই সময় রাস্তায় তেমন পুলিশের সংখ্য়াও কম ছিল তুলনামূলক। ফলে তাণ্ডবকারীদের মাঝে পড়ে অসহায় অবস্থায় দেখা যায় ওই পুলিশকর্মীকে। দীর্ঘ চেষ্টার পর দু’পক্ষকে শান্ত করা যায়।
তবে শুধু ওই এলাকাতেই নয়, এ দিন সকাল থেকে বহরমপুরের একাধিক জায়গা থেক অশান্তির খবর উঠে এসেছে। শাসকদলের সঙ্গে হাতাহাতি, মারামারিতে জড়িয়েছে কংগ্রেস এবং বিজেপি। একাধিক বুথে কংগ্রেসের এজেন্টকে বার করে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। খবর পেয়ে ছুটে আসতে হয় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীকে। সেখানে কংগ্রেসের এক কর্মীকে মেরে কানও ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে তৃণমূলের অভিযোগ।
এমনকি অশান্তির সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমকেও হেনস্থার শিকার হতে হয়। কোথাও ক্যামেরা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন অশান্তি বাঁধানো লোকজন। কোথাও আবার থবি তুলতেও বাধা দেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ নামিয়ে ভোট করানোর পরেও, এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তাই প্রশাসন এবং কমিশন, দুই পক্ষকেই দুষছেন বিরোধীরা। ভোটের নামে সন্ত্রাস চলছে বলে অভিযোগ অধীরের।