অরিত্রিক ভট্টাচার্য, কলকাতা : দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি পুজোর মধ্যে বৃষ্টি চলেছে উত্তরবঙ্গেও। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ বুধবার নবমী থেকে বৃষ্টি বাড়বে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাগুলিতে। বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরের প্রায় সব জেলাতেই। আংশিক মেঘলা আকাশ থেকে মেঘলা আকাশের সম্ভাবনা বেশি। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। মূলত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে।
বৃহস্পতিবার দশমীতে ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার - উত্তরের এই ৫ জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হতে পারে মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর- এই দুই জেলায়। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস বইতে পারে বলেও জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
শুক্রবার এবং শনিবার, অর্থাৎ একাদশী এবং দ্বাদশীতেও দুর্যোগের আবহাওয়া বজায় থাকবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। দার্জিলিং-সহ উত্তরের উপরের পার্বত্য পাঁচ জেলাতে দুর্যোগের আশঙ্কা বেশি রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। বৃষ্টি হতে পারে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত। উত্তরের নীচের দিকের জেলা মালদা ও দুই দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সঙ্গে ঝোড়ো বাতাস বইবে।
রবিবার উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টি চলবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি - এই পাঁচ জেলাতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা আগের তুলনায় কিছুটা কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। সোমবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দার্জিলিং-সহ উপরের পাঁচ জেলায়। ভারী বৃষ্টি হতে পারে শুধুমাত্র দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলাতে। অন্যান্য জেলায় তুলনায় কম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছর প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। বর্ষার বৃষ্টি ছাড়াও নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে উত্তরের বিভিন্ন জেলায়। তিস্তা নদীতে জলস্তর বেড়ে গিয়েছিল। যার জেরে ভেসে গিয়েছে রাস্তাঘাট। নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে ভেঙেছে রাস্তাঘাট। বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের জনজীবন। ফের একবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। উত্তরবঙ্গের যে পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে আগামী কয়েকদিন, সেগুলি সবকটিই পার্বত্য অঞ্চল। তার ফলে রাস্তায় ধস নামার এবং ওই অঞ্চলের নদীতে জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফের একবার ব্যাহত হতে পারে জনজীবন। কবে পুরোপুরি বৃষ্টি থামবে, সেই আশাতেই রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ।