কলকাতা : বিধানসভা ভোটের আগে জোটের ডাক ISF বিধায়কের। তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাতের লক্ষ্যে জোটের ডাক দিলেন নৌশাদ সিদ্দিকি। 'বামফ্রন্ট, কংগ্রেস বা আরও যে সমস্ত সেকুলার ফোর্স আছে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, জানুয়ারির মধ্যে আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করে দেব', এমনই মন্তব্য করেছেন নৌশাদ। তাঁর এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। 

Continues below advertisement

এদিন নৌশাদ বলেন, "জোট করবার জন্য প্রস্তুত। বিজেপি এবং তৃণমূলকে হারানোর জন্য, সহজে যাতে হারানো যায় তারজন্য, কষ্ট কম করে যাতে বেশি ফল পাওয়া যায় তারজন্য জাতীয় কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং আরও যেসব সেকুলার ফ্রন্ট আছে তাদের জানিয়েছি। ২১ জানুয়ারির প্রস্তুতি হয়ে গিয়েছিল বলে এই ক'টা দিন মধ্যিখানে গ্যাপ পড়ে গিয়েছে। আগামীকাল থেকেই আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে দ্রুততার সঙ্গে এই জোট প্রক্রিয়া যাতে এই মাসের মধ্যে সমাপ্ত করা যায় সেটা আমরা করব। নাহলে, রাজ্যস্তরে জোট হয়ে যাবে, বুথ স্তরে এই জোটের কোনও প্রভাব আসবে না। সেজন্য আমরা বলেছি, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস বা আরও যে সমস্ত ফোর্স আছে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আর কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা বাকি আছে। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে...আশা করছি জানুয়ারির মধ্যে আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করে দেব।" 

নৌশাদের বক্তব্য প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, "বিজেপি ও তৃণমূলের বাইরে যারা আছে, তাদের মধ্যে তো পারস্পরিক আলোচনা হওয়ারই কথা। সদর্থক মনোভাবেই নিশ্চয় নৌশাদ সিদ্দিকি বলেছেন। এই নির্বাচনে যে কোনও সেনসিবল লোক, যে কেউ বুঝবে যদি পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হয়, যদি যুবসমাজকে রক্ষা করতে হয়, পরের প্রজন্মের দিকে যদি তাকাতে হয় তাহলে এই মন্দির-মসজিদ রাজনীতির নামে যে ধ্বংসের ব্যবস্থা হচ্ছে, তার বাইরে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে। বিজেপি-তৃণমূলকে হারাতে গেলে যারা সেকুলার তাদের একজোট হতে হবে।"    

Continues below advertisement

প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বক্তব্য, "প্রস্তাবটা তো অসঙ্গত নয়। যুক্তিযুক্ত প্রস্তাব। যত ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন আছে বাংলায়, তাদের এক হয়ে চললে নিশ্চয়ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আঘাত দেওয়ার ক্ষেত্রে একটা বড় ক্ষেত্র তো প্রস্তুত হবে। আমি ২০১৬ সালে যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন বামেদের সঙ্গে জোট তো করেছিলাম। আইএসএফের সেই সময়কার যারা নেতৃত্ব ছিলেন, তাঁদের সেদিনের  যে অ্যাটিচুড ছিল সেগুলোর সঙ্গে মানাতে পারিনি। কিন্তু, এখন যে ছেলেটা আইএসএফ করেন, তাঁর কথা শুনে আমার কখনো খারাপ মনে হয়নি। তিনি যুক্তিযুক্ত কথা বলছেন।"

যদিও নৌশাদের জোট-আহ্বানের পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, "এরা সব হচ্ছে বি, সি, ডি টিমস। বিজেপির বি টিম, সি টিম, ডি টিম যেগুলো আছে...সিপিএম-কংগ্রসকে দিয়ে খেলেছিল লাভ হয়নি। শূন্য হয়ে গেছে। এবার ধর্মের মুখোশ পরিয়ে নামাচ্ছে। আমি কাউকে নাম করে কিছু বলতে চাই না। কিন্তু, যারা সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করতে বিবৃতি দিচ্ছেন তাঁরা নাকি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বেন বলে, তাঁরা বিজেপির হাতেই তামাক খাচ্ছেন কি না সেটা ভাল করে খোঁজ নেবেন। "