হুগলি: শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2026)। দিকে দিকে জোরকদমে প্রচার-যুদ্ধ চলছে। ভোটের (Election) প্রচার শুনলেই অনেকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে চেনা সেই ছবি। যেখানে থাকে একটা সাজানো মঞ্চ, মাইক, জনগণ ও কোনও না কোনও দলের প্রার্থীরা। স্থান-কাল-পাত্র বদলে যায়, আর চলতে থাকে ভোটের প্রচার। যত দিন যাচ্ছে প্রচারের ধরনও বদলে যাচ্ছে। এখন আর শুধু সভামঞ্চেই আটকে নেই প্রার্থীরা, আমজনতার বাড়ির দরজায় দরজায় পৌঁছে যাচ্ছেন তাঁরা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ বার পুরশুড়ায় অভিনব প্রচার করতে দেখা গেল তৃণমূল (TMC) প্রার্থী পার্থ হাজারিকে (Partha Hazari)। গৃহস্থের হেঁশেলে ঢুকে রুটি বেলতে বেলতেই ভোট চাইলেন তিনি।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ বেশ টের পাচ্ছে ভারতও। যুদ্ধের ২৩দিন পার। তারপরও জ্বালানি সঙ্কট কাটেনি। এরই মাঝে বিধানসভা ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। আর নানা দলের অনেক প্রার্থী গ্যাস না পাওয়া ইসুকেও তুলে ধরছেন নিজ নিজ প্রচারে। শহরের পাশাপাশি গ্রাম বাংলার নানা প্রান্তে গ্যাসের সঙ্কট বেশ তীব্র। এবার হুগলির পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারি প্রচারে বেরিয়ে ঢুকে পড়লেন এক ভোটারের রান্নাঘরে।
শনিবার পুরশুড়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারি পৌঁছে যান পুরশুড়া ২ অঞ্চলের পালপাড়া এলাকার এক ভোটারের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, বাড়িতে গ্যাস নেই। তাই বাধ্য হয়ে গৃহবধূ উনুনে রুটি বানাচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখে পার্থ বেলন হাতে নিজেই রুটি বেলতে শুরু করেন। আর পার্থকে এমনটা করতে দেখে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উৎসাহ বাড়ে। হেঁশেলের মধ্যেই তাঁরা পার্থর নামে শুরু করে দেন স্লোগান। পার্থ হাজারি এই প্রসঙ্গে জানান, আগেও তিনি রুটি বানিয়েছেন। কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে। এখন গ্যাস নেই বলে অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন। তাই প্রচারে বেরিয়ে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
বর্তমানে ট্রেন, বাস বা রাস্তার প্রচারের বাইরে গিয়ে প্রার্থীরা সরাসরি মানুষের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন। তবে গ্যাসের অভাবের মাঝেই হেঁশেলে ঢুকে রুটি বানানোর এই উদ্যোগ নিয়ে জোর আলোচনা হয়েছে। তবে শুধু রুটি বেলাই নয়, এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটও চান পার্থ হাজারি। পাশাপাশি প্রবীণ ভোটারদের কাছ থেকে আশীর্বাদও নেন।
তৃণমূলের প্রার্থী পার্থর প্রচারে একদিকে যেমন এই অভিনবত্ব দেখা গেল, তেমনই অপরদিকে দুবরাজপুরের বিজেপি প্রার্থী অনুপ সাহাকে দেখা গিয়েছে রাস্তার ধারে নাপিতের থেকে ক্ষুর চেয়ে নিয়ে দাড়ি কাটতে। নির্বাচন সম্পন্ন হতে মাস খানেক দেরি। তার আগে প্রচারে হয়তো আরও নানা অভিনব উদ্যোগ নিতে দেখা যাবে নানা দলের প্রার্থীদের।
