অভিজিৎ চৌধুরী, মালদা: মালদার মন বোঝা কি ক্রমশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে তৃণমূলের কাছে? বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যের শাসকদলের কাছে আরও কঠিন হচ্ছে চ্যালেঞ্জ? বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালদা সফরের ঠিক আগে এই প্রশ্নই মাথাচারা দিচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। একদিকে যখন রতুয়া আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ১৬ জন ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করছেন খোদ সেখানকার তৃণমূল বিধায়ক। অন্যদিকে তৃণমূলেরই একাংশের বক্তব্য, মালদার ইংরেজবাজারে প্রার্থী হতে এগিয়ে আসছেন না কেউই।
মালদা জেলা তৃণমূল নেতৃত্বেরই একাংশের বক্তব্য মালদা জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী নিয়ে চিন্তায় পড়তে হচ্ছে দলকে। একদিকে রতুয়া আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য লাইন পড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইংরেজবাজার কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কেউই। এরই মধ্যে খোদ রতুয়ার বিধায়কের বক্তব্যে আরও বেড়েছে তৃণমূলের বিড়ম্বনা।
রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ১৬ জন প্রার্থী আছে। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, আশিস কুণ্ডু।১৬ জন। রতুয়া সেফ। মালদার মধ্যে সেফ সিট ফর সমর মুখার্জি। নট ফর আদার্স। ওই ১৬ জনের মধ্যে আমি একজন। একই মত সেই জেলার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ছোটন মল্লিকের। তাঁর দাবি, 'বিভিন্ন প্রোগ্রামে স্বঘোষিতভাবে বলছে যে এবার আমি প্রার্থী হব।'
অন্যদিকে,২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে ইংরেজবাজারে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে দেখলে, হিন্দু অধ্যুষিত ইংরেজবাজার বিধানসভায় বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। যদিও গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে, রতুয়ায় তৃণমূলের থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বিজেপি।
এই জন্যই কি ইংরেজবাজার নিয়ে এত চিন্তা করতে হচ্ছে তৃণমূলকে? কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী মনে করছেন , মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ঠিক করবেন কে প্রার্থী হবে। এই নিয়ে আবার শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এদিকে আবার বিজেপির দাবি,'তৃণমূলের যে সমস্ত ছোট, মেজ নেতারা আছেন তাঁরা আমাদের কাছে স্বীকার করছেন যে তৃণমূলের কোনও নেতা ইংলিশবাজার বিধানসভায় দাঁড়াতে চাইছেন না।' কয়েকদিন আগেই তৃণমূল ছেড়েছেন মালদার ভূমিকন্যা মৌসম বেনজির নূর। এমনকী রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মালদা বিশেষ নজরে রয়েছে বিজেপিরও। এরই মধ্য়ে এবার মালদার একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী নিয়ে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে রাজ্যের শাসক দল?