কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপ তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে উত্তর আন্দামান সাগরের উপর তৈরি হওয়া ঊর্ধ্ববায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্ত ক্রমশ পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে। এর প্রভাবে আগামী ২৩ অক্টোবর, শুক্রবারের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই নিম্নচাপ পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
কোথায় রয়েছে ঘূর্ণাবর্ত?
আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঊর্ধ্ববায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্তটি দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের উপর অবস্থান করছে। উত্তর আন্দামান সাগরের কাছে তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণাবর্তের গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।
এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আগামী ২৩ অক্টোবর দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্নচাপটি তৈরি হওয়ার পর কোন দিকে এগোয় এবং কতটা শক্তি সঞ্চয় করে, তার উপর পরবর্তী আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
শুধু বঙ্গোপসাগর নয়, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল এবং ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকাতেও ঊর্ধ্ববায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্তের উপস্থিতি রয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের উপর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন এলাকার উপরও একই উচ্চতায় আরও একটি ঊর্ধ্ববায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে।
এই তিনটি আবহাওয়াগত পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে শুধু ঘূর্ণাবর্ত ও সম্ভাব্য নিম্নচাপের উপস্থিতির ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি বা ঝড়ের নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া যায় না।বাংলার আবহাওয়ায় কী প্রভাব পড়বে?
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলে তার অবস্থান, অভিমুখ, শক্তি এবং স্থলভাগ থেকে দূরত্বের উপর নির্ভর করে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ২২ অক্টোবরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নিম্নচাপের জেরে বাংলার কোন কোন জেলায় বৃষ্টি হবে, কোথায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বইবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তাই আগামী ২৩ অক্টোবর এবং তার পরবর্তী সময়ের আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখা জরুরি। বিশেষ করে সম্ভাব্য নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তি সম্পর্কে পরবর্তী আবহাওয়া বুলেটিনে কী জানানো হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
