কলকাতা: রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ'র উপস্থিতিতে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এরপর মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়কে বাংলার রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেছেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে মমতাকে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'উনি রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক। কোনও মন্তব্য করব না।'

Continues below advertisement

আজ ২৫ শে বৈশাখ বাংলায় নতুন সরকার গড়ল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একইদিনে কালীঘাটে নিজের দফতরে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হয়। সেখানেই বৃহত্তর জোটের বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, "আমরা চাই একটা যৌথ মঞ্চ তৈরি হোক, যাতে বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দল, এমনকী আপনারা যদি বলেন বামপন্থী, আমার কোনও ইগো নেই। সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। আজ যা অবস্থা বিজেপি-কে রুখতে হলে লেফট, আলট্রা লেফট সকলকে তৃণমূল কথা দিচ্ছে...যার যতটুকু শক্তি আছে, জাতীয় স্তরে যেমন লড়াই হবে, রাজ্যেও জোট বাঁধি। কোনও দল বসতে চাইলে, ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত অফিসে আছি। আমাকে জানাবেন। নিশ্চয়ই কথা বলব। রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে সকলের কাছে আবেদন, আমি কে, ও কে, শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু ভাবার সময় নয় এটা। রাজনৈতিক ভাবে প্রথম শত্রু বিজেপি। যারা দেশের ভাল চায় না, বাংলার ভাল চায় না।' যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আমন্ত্রণ উপেক্ষা করেছেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ।

Continues below advertisement

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য়মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর জন্য় সেজে উঠছে মহাকরণ। দুধ সাদা দেওয়ালে সাদা-কালো ছবির সারি। কোনওটায় ট্রাম। গঙ্গা, নৌকা, কোনও ছবিতে ধরা শ্যামবাজারে নেতাজির মূর্তি। একের পর এক ফ্রেমে বন্দি আদি অকৃত্রিম কলকাতা। মহাকরণে মেন ব্লকের ৩ তলায় এভাবেই সেজে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘর। 

উল্লেখ্য, ঘরের পাশেই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বিশেষ লিফট। বিবাদীবাগের বুকে এই লালবাড়ি কয়েক যুগের ইতিহাসের সাক্ষী। ১৭৭৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্লার্ক বা রাইটারদের থাকার জন্য লালদিঘির পাড়ে এই বাড়ি তৈরির কাজে হাত দেন স্থপতি টমাস লিয়ন্স। নাম দেওয়া হয় রাইটার্স বিল্ডিং। নির্মাণকাজ চলে ১৭৮০ সাল পর্যন্ত। রাইটার্স বিল্ডিং ছিল সেকালের কলকাতার প্রথম তিনতলা ভবন।