উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কৃষ্ণেন্দু অধিকারী ও আশাবুল হোসেন, কলকাতা : জাহাঙ্গির খান থেকে শেখ শাহজাহান। সওকত মোল্লা থেকে দিলীপ মণ্ডল। সবাই এখন জেলে। মঙ্গলবার তাঁদের নাম নিয়েই বিধানসভায় ফের সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, আরও কড়া আইন আনা হবে, আরও কঠিন ব্যবস্থা হবে।

Continues below advertisement

এক একটা নাম। আর এক একজন ছিলেন, এক একটা এলাকার ত্রাস। তাঁদের মধ্যে কেউ আবার ছিলেন জন প্রতিনিধি, এমনকী মন্ত্রীও। কাউকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তো কাউকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই একে একে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এদের অনেকেই। যাদের মধ্যেই অন্যতম জাহাঙ্গির খান। ফলতার একসময়ের বেতাজ বাদশা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা। যিনি আবার নিজেকে একসময় সিনেমার 'পুষ্পা'র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কিন্তু এরপরই ফলতার পুনর্নির্বাচনের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যান তথাকথিত পুষ্পা। সম্প্রতি নেপাল সীমান্ত থেকে জাহাঙ্গিরকে ধরে আনে শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশ। মঙ্গলবার বিধানসভাতেও তাঁর নাম শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, "পুষ্পা ঝুকেগা নেহি! ওঁর পুষ্পা বাজারেই নেই। বাজার ছেড়ে পালিয়ে গেছে। জামানত জব্দ হয়েছে।"

Continues below advertisement

ফলতার যদি জাহাঙ্গির হন, তাহলে ক্যানিংয়ের সওকত মোল্লা। তাঁকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পালিয়েও রেহাই পাননি বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। পুলিশ তাঁকে পুরী থেকে ধরে নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে সন্দেশখালির শাহজাহান এখনও জেলবন্দি। ED-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন সোনা পাপ্পু। এদের নিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভায় কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "শাহজাহানকে কেউ বাঁচাতে পারবে না, দিলীপ মণ্ডলদের কেউ বাঁচাতে পারবে না, রাজু নস্কর থেকে সোনা পাপ্পুর মতো গুন্ডাদের কেউ বাঁচাতে পারবেন না, নিশ্চিন্তে থাকুন। নিশ্চিন্তে থাকুন। আরও কড়া আইন আনা হবে, আরও কঠিন ব্যবস্থা হবে।" শাহজাহান থেকে জাহাঙ্গির, এদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার কতদিনে হয় সেটাই দেখার। 

এদিকে স্কুল থেকে পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি, ১০০ দিনে কাজ, আবাসে দুর্নীতি, বালি চুরি, কয়লা চুরি, গরু চুরি, তৃণমূলের জমানায় নানা জায়গা থেকে সামনে এসেছে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি। নাম জড়িয়েছে হেভিওয়েট নেতাদের। এমনকী, তৃণমূল ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরও তাদের সময়কার কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস হচ্ছে। ত্রাণ দুর্নীতি, মাটি চুরি, 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'-এ দুর্নীতির মতো ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠছে। এই প্রেক্ষিতে কড়া অ্য়াকশন নিয়েছে বিজেপির সরকার। মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এনিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাফ জানিয়ে দিলেন, চুরি করলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং নিলাম করার আইনও আনতে চলেছে তাঁদের সরকার।