সমীরণ পাল, কলকাতা : ভোটপর্বের আবহে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে খবর, কব্জি থেকে দুটো হাত কাটা এবং একটি পা ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে মসিউর কাজির দেহ। কার হাত এর পিছনে? এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু জানা না-গেলেও পরিবারের লোকেদের সন্দেহ কিন্তু দলেরই একাংশের দিকে। 

Continues below advertisement

ঘটনা বিস্তারে ...

তৃণমূল কর্মীর পরিবার সূত্রে দাবি, গতকাল রাত ৯টার পর থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে খবর, মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ঝুঝুরগাছা এলাকায় তাঁর অর্ধনগ্ন ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। কাপড়ের দোকান রয়েছে তৃণমূল কর্মী মসিউর কাজির। দোকান থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ করেছে মৃতের পরিবার। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।               

Continues below advertisement

পরিবারের অভিযোগ ...

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে তৃণমূল নেতা খুন হওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগও সামনে এসেছে!  মৃতের পরিবার বলছে, আগেও মসিউরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, মারধরও করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে দেগঙ্গা ২ নম্বর ব্লকের নতুন পঞ্চায়েত সভাপতি সুব্রত বসু আসার পরেই গোলমাল শুরু হয়। পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে, অভিযোগ চাঁপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মতি মিয়াঁর।    চাঁপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতা ও সদস্য  মতি মিয়া জানালেন, 'এই খুন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। মাস তিনেক আগে আমাদের নতুন সভাপতি হয় সুব্রত দাস (কৃষ্ণ)। কৃষ্ণদা (সভাপতি) হওয়ার পরে একটা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৈরি হয়। আমরা হুমায়ুন রেজা চৌধুরীর লোক। বিভিন্ন রকম হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেই হিসেবে অনেকবার কৃষ্ণর (সুব্রত দাস) কাছে বলা হয় যে, ব্যাপারটা মিটিয়ে দিন। সেই হিসেবে কোনওরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ তার এই প্রতিফলন।'                            

 এ বিষয়ে জানতে দেগঙ্গা ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সুব্রত বসুকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। অভিযোগ সামনে আসতেই আক্রমণ শানাতে দেরি করেনি বিজেপি।  অজ্ঞাত পরিচয়দের বিরুদ্ধে হাড়োয়া থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে মৃত তৃণমূল নেতার পরিবার।