কলকাতা: বদলের পশ্চিমবাংলায় পোস্টাল ব্য়ালটেও জোর ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। সেখানেও স্পষ্ট প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা। এই কথা বলছে, নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান। কমিশন সূত্রে খবর, পোস্টাল ব্যালটে মোট ভোটের ৮০ শতাংশই গেছে তৃণমূলের বিপক্ষে। বেশিরভাগ আসনেই ধাক্কা খেয়েছে তারা। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেছেন, 'কর্মচারী সমাজ উজাড় করে বিজেপিকে পোস্টাল ব্য়ালটে ভোট দিয়েছে। এরমধ্য়ে কোনও কিন্তু নেই।' ছাব্বিশের ঐতিহাসিক ভোটে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মোট ভোটের প্রায় ৪৬ শতাংশ পেয়েছে বিজেপি। সেখানে তৃণমূলকে থামতে হয়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, বদলের পশ্চিমবাংলায় পোস্টাল ব্য়ালটেও জোর ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। সেখানেও স্পষ্ট প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা। কমিশন সূত্রে খবর, পোস্টাল ব্যালটে মোট ভোটের ৮০ শতাংশই গেছে তৃণমূলের বিপক্ষে। বেশিরভাগ আসনেই ধাক্কা খেয়েছে তারা। তবে, ছাব্বিশের ভোটের ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে ৯টি পোস্টাল ভোটে এগিয়ে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পেয়েছেন ৪৬৩ টি ভোট। শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৪৫৪ টি। যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ৯৭৫টি পোস্টাল ভোট। সেখানে তৃণমূল ৬৯৬ এবং সিপিএম পেয়েছে ৬২৫ টি পোস্টাল ভোট। রাসবিহারী কেন্দ্রে পোস্টাল ব্য়ালটের ভোটে বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত পেয়েছেন ৭২৫টি ভোট। তৃণমূলের দেবাশিস কুমার পেয়েছেন ৫৯২টি ভোট। বিধাননগরে তৃণমূলের সুজিত বসু পোস্টাল ব্য়ালটে ভোট পেয়েছেন ৫৬৭ টি। বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ৭৯২টি। এই সবকটি কেন্দ্রেই তৃণমূলকে হারিয়ে জয়ী হয়েছে বিজেপি।
মলয় মুখোপাধ্যায় আরো বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তারা বারবার বলেছে আমরা নির্দিষ্ট নিয়মমতো DA দেব এবং ৪৫ দিনের মধ্যে বেতন কমিশন ঘোষণা করব। বিগত তৃণমূল সরকার একটা বেতন কমিশন পেয়েছে ৪ বছর পরে আমাদের দিয়েছে সেখানেও DA ছাড়া। এতটা বঞ্চনা সিপিএম সরকারও করেনি।' কমিশনের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট, শুধু সরকারি কর্মচারীরাই নন, পোস্টাল ব্যলটে বয়স্করাও পরিবর্তন চেয়েছেন। নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩২টি পোস্টাল ভোট। তৃণমূলের পবিত্র কর পেয়েছেন ৮৯৯ টি। কামারহাটিতে তৃণমূলের মদন মিত্র পেয়েছেন ৩২৪ টি। বিজেপির ঝুলিতে গেছে ৫১০টি পোস্টাল ভোট। ব্য়ারাকপুরে বিজেপি প্রার্থী কৌস্তুভ বাগচী পেয়েছেন ৯০৭ টি পোস্টাল ভোট। সেখানে তৃণমূলের রাজ চক্রবর্তীর ঝুলিতে গেছে ৫৫১ টি। পানিহাটিতে বিজেপির রত্না দেবনাথ ৬৯৮টি পোস্টাল ব্য়ালটে ভোট পেয়েছেন। উল্টো দিকে ৩৬২ টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ।
কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যলটে ভোট দেন সার্ভিস ভোটার। নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত কর্মী প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার অত্যাবশ্যক পরিষেবা-কর্মীরা। কিছু ক্ষেত্রে 'হোম ভোটিং' ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। ভোট গণনার পর দেখা যাচ্ছে জেলার অসংখ্য বিধানসভা আসনের পোস্টাল ব্যালটেও মাত করেছে বিজেপি। কেন্দ্র বারুইপুর পশ্চিম, তৃণমূল প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৮৭২ টি ভোট পেয়েছেন সেখানে বিজেপি পেয়েছে ১ হাজার ৭৮ টি ভোট। সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায় পেয়েছেন ২ হাজার ২টি তৃণমূল পার্থী লাভলি মৈত্র পেয়েছেন ৮৩৩ টি। কোচবিহারের দিনহাটা আসনে তৃণমূলের উদয়ন গুহ পেয়েছেন ৯৭৭ টি পোস্টাল ভোট, বিজেপি প্রার্থী অজয় রায় পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬০ টি। আসানসোল দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন ৭৭৩ টি, তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৩৯৬টি। বহরমপুরে অধীর চৌধুরী ১ হাজার ১০২ ভোট পেয়েছেন পোস্টাল ব্যালটে। তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ৪৭০ টি পোস্টাল ভোট। তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়াকে পালে লাগিয়ে ভোট বৈতরণী পার করেছে বিজেপি। এবার প্রত্যাশাপূরণের অপেক্ষায় রয়েছে জনতা জনার্দন।
