ব্যারাকপুর: তৃণমূল পরিচালিত ব্যারাকপুর পুরসভায় (Barrackpore Municipality) বিজেপি বিধায়ক। তৃণমূল কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বললেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী (Kaustuv Bagchi)।  'আপনারা আপনাদের মতো কাজ চালিয়ে যান', কাউন্সিলারদের সঙ্গে আশ্বস্ত করে বার্তা ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর।

Continues below advertisement

দিনকয়েক আগেই ব্যারাকপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলাররা পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন নবনির্বাচিত বিধায়ক কৌস্তভ। সেই কাউন্সিলারদের অভয় দিলেন, আশ্বস্ত করলেন ব্যারাকপুরের নবনির্বাচিত বিজয়ী প্রার্থী। কৌস্তভ এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান তৃণমূলের মতো ভুল বিজেপি করবে না।

তিনি বলেন, 'কাউন্সিলাররা ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন তাঁরা পদত্যাগ করে দেবেন। সে ব্যাপারে আমি একদিন তাঁদের কথা শুনতে গিয়েছিলাম। শোনার পরে তাঁদের বিষয়টা আমাদের উচ্চ নেতৃত্বকে জানালাম, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে বললাম, আমাদের এখানকার প্রভারী সুনীল বনশলকে বললাম। ওঁরা আমায় স্পষ্ট মানা করলেন। কী কারণে এই পদত্যাগের ইচ্ছা জানাতে চাইলে বলমাম ওঁরা হয়তো ভয় পাচ্ছে। যেহেতু এখন সরকার বদল হয়েছে, তাই ওঁরা কাজ করতে পারবে কি না, সেই নিয়ে সংশয়ে রয়েছে ওঁরা। তখন আমায় উচ্চ নেতৃত্ব ওঁদের আশ্বস্ত করতে বলে যে ওঁদের কোনওরকম অসুবিধা হবে না। তৃণমূল যে ভুল করেছে, অন্যায় করেছে, সেটা ভারতীয় জনতা পার্টি করবে না। ভারতীয় জনতা পার্টি কোনও অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া বা এই জিনিসগুলি করবে না। পুরসভাগুলির প্রতি আমরা নিরপেক্ষ আচরণ করs, এই দৃষ্টান্তটা মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টির মেয়াদকালে দেখতে পাবে।'

Continues below advertisement

আরও পড়ুন:- শপথ নেওয়ার দিন রাতেই কাঁথির বাড়িতে, শান্তিকুঞ্জে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী 

এ বিষয়ে ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস বলেন, 'কাউন্সিলদের জিজ্ঞেস করেছিল যে কবে পদত্যাগ করতে চাও। আমি বলেছিলাম যে তোমরা আধিকারিক বসাবে, তারপর যা বলবে হবে, এটা তো সরকারি পদ্ধতি। তারপর দুইদিন বাদে আবার এসে বলল তোমরা কেউ পদত্যাগ করবে না, যেমনভাবে মানুষের পরিষেবা দিচ্ছিলে, তেমনভাবেই দেবে। বিধায়ক বলেছে কোনও অসুবিধা হলে, ওঁকে জানাতে। এখনও অবধি এমনই কথাবার্তা হয়েছে।'

ব্যারাকপুরে দলের ভরাডুবির পর তৃণমূল নেতা এবং ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস রাজ চক্রবর্তীকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, 'তার ৫ বছরের অ্যাক্টিভিটিস তো... পলিটিক্সের সঙ্গে সিনেমা গুলিয়ে ফেলে। সে এখানে সিনেমা করতে এসেছিল। সিনেমার ব্যবসা। খালি টাকা নিয়ে একে ঢোকাবো, ওকে ঢোকাবো, এই এমএলএ-কে ঢোকাবো, ওই এমপি-কে ঢোকাবো। সিনেমাতে ঢোকানোর একটা ব্যবসা খুলে বসেছিল। এই ধরনের ব্যাপার... টাকা ছাড়া আর কী... টাকা ছাড়া তো সিনেমা হয় না। এই জন্যই দলের বিপর্যয়। '৯৮ সাল থেকে দল করা লোকের বেশিরভাগ বঞ্চিত। ২০১১ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর নতুন লোক যারা বেশিরভাগ ২০১৯- এ এসেছে, ২০২০-তে এসেছে তারা পশ্চিমবঙ্গে নেতৃত্ব দেবে। রাজ চক্রবর্তীর কথা আমি গুনতির মধ্যেই আনি না। সে পলিটিকাল লোক নয়। ধান্দাবাজ লোক। ধান্দা করতে এসেছিল। মানুষ সেভাবে নেয়নি।' তবে এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরেও আপাতত কিন্তু দল ছাড়ছেন না উত্তম দাসরা।