কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গে এক নাগাড়ে বর্ষণ। আর টানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। দক্ষিণবঙ্গের নদীগুলিতে বাড়ছে জলস্তর। বৃষ্টির জেরে ক্ষেত থেকে শুরু করে বাড়ি চলে গিয়েছে জলের তলায়। বাঁকুড়া হোক বা উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর হোক বা হুগলি সর্বত্রই ছবিটা এক। জলমগ্ন চাকদা-বনগাঁ রোডে দুয়ারে নৌকা নামিয়ে প্রতিবাদ করে বামেরা।

টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের একাধিক গ্রাম। শালী নদীর সেতুর উপর দিয়ে বইছে জল। সমস্যায় সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, টানা বৃষ্টিতে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদীর জল। বন্ধ পারাপার। ৭ থেকে ৮টা গ্রাম ভেসে গিয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে যোগাযোগ। ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না এই অবস্থায়। দ্রুত সমস্যার সমাধান চাইছেন তাঁরা। বর্ষা আসতেই চেনা ছবি ফিরেছে ঘাটালেও। জলের তলায় দোকানপাট থেকে ঘর বাড়ি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে তরজার আবহেই ফের দুর্ভোগের শিকার সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এমনই হয়েছে যে জল জমার জেরে বন্ধ রাখতে হয়েছে দোকান। 

একদিকে টানা বৃষ্টি অন্যদিকে ডিভিসির ছাড়া জল, জোড়া ফলায় এবার ভাসল হুগলির আরামবাগের চারটি পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৮ টি গ্রাম। জল ঢুকেছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ভেতরে। অনেক দোকান ও একতলা বাড়িতে উঠেছে জল। কোথাও হাঁটু, তো আবার কোথাও কোমড় সমান জল পেরিয়ে চলছে যাতায়াত। এমনকি জল ঢুকে বিপজ্জনক মাটির একাধিক বাড়ি। ফসল নষ্টের আশঙ্কা চাষীদের। বিজেপির অভিযোগ, খাল সংস্কার না করার জন্য এই দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পাল্টা ডিভিসির জল ছাড়াকে দায়ী করে বিজেপিকে নিশানা করেছে তৃণমূল। চাকদা-বনগাঁ রোডে জলযন্ত্রণা জেরে নৌকা নামিয়ে প্রতিবাদে নামে বামেরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে জল জমে রয়েছে চাকদা-বনগাঁ রোডের একটি অংশে। বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক পর্যন্ত রাজ্য সড়কের অবস্থা শোচনীয়। বহু যাত্রীকে হাঁটুজল পেরিয়ে ট্রেন বা বাস ধরতে হচ্ছে। একইভাবে টানা বৃষ্টির কারণে বিপর্যস্ত সুন্দরবনও। গত কয়েকদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বৃষ্টির ফল বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভেসে গিয়েছে চাষের জমি। মাছ ধরতে যেতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। যদিও এই জল নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনীতি। 

তবে এই জল যন্ত্রণার ছবি শুধুমাত্র জেলার নয়। খাস কলকাতাতেও হাসপাতালে জমেছে জল। বর্ষা এলেই এমনই বেহাল ছবি দেখা যায় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতাল চত্বরের যেখানে জল জমেছে তার একদিকে প্রসূতি ও নবজাতক বিভাগ। রয়েছে ট্রমা কেয়ার সেন্টারও। আবার কার্ডিওলজির টেস্ট করাতে গেলেও ওই পথ দিয়েই যেতে হয়। জল পেরিয়েই হাসপাতালের পরিষেবা পেতে হচ্ছে রোগীদের। একইপথ দিয়ে জল ভেঙে যেতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও।