নয়াদিল্লি: তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা দেশের বড় অংশ । এর মধ্যেই স্বস্তির খবর শোনাল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আর ঠিক ১ দিনের মাথাতেই,  ৪ জুন নাগাদ বর্ষা ঢুকছে ভারতের মূল ভূখণ্ডে। আন্দামান নিকোবরে বর্ষা ঢুকে গিয়েছে আগেই। ভারতের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করে কেরল দিয়েই। কেরলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রবেশ করবে আর ১-২ দিনেই । পাশাপাশি বর্ষার আরও অগ্রগতির জন্য আবহাওয়াও এখন অনুকূল বলে জানিয়েছে আইএমডি।

Continues below advertisement

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ধীরে ধীরে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে অগ্রসর হতে পারে। এর জেরে লাক্ষাদ্বীপ, কেরল এবং তামিলনাড়ুর আরও কিছু এলাকায় বর্ষার প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম, পশ্চিম-মধ্য, পূর্ব-মধ্য এবং উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অংশেও মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে অচিরেই। মঙ্গলবার আইএমডি জানিয়েছে, “৪ জুন নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আরও অগ্রগতির জন্য পরিস্থিতি অনুকূল রয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের কিছু অংশ, লাক্ষাদ্বীপ, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় মৌসুমী বায়ুর বিস্তার হতে পারে।”

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৬ থেকে ৭ দিনের মধ্যে কেরলের কয়েকটি এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের বিচ্ছিন্ন এলাকাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

Continues below advertisement

শুধু দক্ষিণ ভারত নয়, উত্তর-পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ভারতের কিছু অংশেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। 

তবে বর্ষার আগমন নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তাও রয়েছে কিছুটা । আইএমডি-র ‘এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ ফোরকাস্ট’-এ বলা হয়েছে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া একটি টাইফুন এবং লাক্ষাদ্বীপ অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড় সঞ্চালনের কারণে কেরলে বর্ষার প্রবেশ কিছুটা দেরি হতে পারে অথবা বর্ষার শুরুটা দুর্বল হতে পারে। কারণ ওই ঘূর্ণাবর্তগুলি আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প টেনে নিচ্ছে।  এদিকে, গত সপ্তাহেই মৌসুমী বৃষ্টিপাত নিয়ে নিজেদের পূর্বাভাসে পরিবর্তন এনেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর। এপ্রিল মাসে যেখানে দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাতের (LPA) ৯২ শতাংশ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে তা কমিয়ে ৯০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, চলতি বছরে বর্ষা ‘ঘাটতিপূর্ণ’ হওয়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ বলেও জানিয়েছে আইএমডি। অর্থাৎ এবার বর্ষায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক কম হবে ।