কলকাতা : ফের দাম বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের। ৪ দিনের ব্যবধানে এনিয়ে দ্বিতীয়বার দাম বাড়ল। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বললেন, "গত এক-দেড় বছর ধরে তেলের দাম দুনিয়ায় বেড়েছে। আমাদের তেল কোম্পানিগুলোর লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাও সরকার মানুষের ওপর চাপ আসতে দেয়নি। কিন্তু, পরিস্থিতির কারণে কিছু তো মানুষকেও স্যাক্রিফাইস করতে হবে। সেইজন্য প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছেন, আপনারা খরচ কমান। তেল খরচ কমান। তারজন্য অন্য ব্যবস্থাও সরকার করবে। মিনিমাম যেটুকু না বাড়ালেই নয়। নাহলে কোম্পানিগুলোই উঠে যাবে।"
এদিন লিটারে ৯৬ পয়সা দাম বাড়ল পেট্রোলের। অন্যদিকে, লিটারে ৯৪ পয়সা করে দাম বাড়ল ডিজেলের। কলকাতায় পেট্রোলের দাম বেড়ে হল লিটারে ১০৯.৭০ টাকা। শহরে ডিজেলের দাম বেড়ে হল লিটারে ৯৬.৬০ টাকা। ৪ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেল।
আশঙ্কা সত্য়ি করে গত শুক্রবার বাড়ানো হয়েছিল পেট্রোলের দাম। বেড়েছিল ডিজেলের দামও। ফলে, বোঝা বাড়ছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে।
একদিকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে প্রবল আশঙ্কা। আর সেইসঙ্গে পাঁচ রাজ্য়ের ভোটও মিটে গেছে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম এবার বাড়ানো হবে বলে জল্পনা চলছিল। এই আবহেই গত শুক্রবার গোটা দেশজুড়ে পেট্রোপণ্য়ের দাম বাড়ানো হয়েছিল। আজ ফের বাড়ানো হল। সম্প্রতি জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, "ভারতের কাছে বড় বড় তেলের ভাণ্ডার নেই। আমাদের পেট্রোল-ডিজেলের ব্য়বহার কম করতে হবে।"
এরপরই শুরু হয় জল্পনা-গুঞ্জন। আর তারপরই গত শুক্রবার পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়। পাঁচ রাজ্য়ে ভোট মিটে যাওয়ার পরই, পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর, মোদি সরকারকে নিশানা করেছিলেন রাহুল গান্ধী। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, 'ভুল মোদি সরকারের, জনতা মূল্য চোকাবে। ৩ টাকার ঝটকা দিয়ে শুরু, বাকিটা কিস্তিতে হবে।' সেই সময় রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, "যুদ্ধ চলছে, যে কারণে দাম বাড়ছে। এটা আমাদের হাতে নেই। আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রস্তুতি নিতে হবে সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন আগেই। অনেকদিন পরে সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যে সঙ্কট চলছে তার থেকে আমরা আলাদা থাকতে পারি না।" Dilip Ghosh on Petrol Diesel Price Hike
