সত্যজিৎ বৈদ্য, কলকাতা : প্রায় নির্বিঘ্নে, বড় কোনও অশান্তি ছাড়াই মিটেছে ছাব্বিশের মসনদের লড়াই। অধিকাংশ জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হলেও, ফল ঘোষণার পরই দুই জায়গায় রক্তপাতের ঘটনা সামনে এসেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একদিকে খাস কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায় তৃণমূল কর্মীর রহস্যমৃত্যু, অন্যদিকে হাওড়া জেলায় বিজেপি সমর্থক খুনের অভিযোগ—এই দুই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বেলেঘাটায় তৃণমূল কর্মীর রহস্যমৃত্যু
সোমবার, ভোটের ফলাফল ঘোষণার রাতেই বেলেঘাটায় উদ্ধার হয় এক তৃণমূল কর্মীর রক্তাক্ত দেহ। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক (৪২)। পরিবারের দাবি, তিনি পেশায় শেফ হলেও সক্রিয়ভাবে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এবারের নির্বাচনে নারকেলডাঙা এলাকার একটি বুথের দায়িত্বেও ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। মৃতের কাকা জানান, তাঁকে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। অন্যদিকে, বোনের কথায় উঠে এসেছে সন্দেহ—ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে, যদিও নির্দিষ্ট করে কারও নাম বলা হয়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফলপ্রকাশের দিন রাতে নিজের বাড়িতেই ছিলেন বিশ্বজিৎ। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ একটি ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর আর তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির সামনেই রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করে পরিবার। পরিবারের দাবি, তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। কীভাবে এই মৃত্যু হল এবং কে বা কারা তাঁকে ফোন করে বাইরে ডেকে নিয়ে গেল—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বেলেঘাটা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।
অন্যদিকে হাওড়ায় উত্তেজনা
অন্যদিকে, হাওড়া জেলায় বিজেপি সমর্থক খুনের অভিযোগ ঘিরেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে, এক বিজেপি সমর্থককে খুনের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, বিজেপির জয়ের আনন্দে আবির খেলার অপরাধেই খুন করা হয়েছে তাঁকে। যদিও এই বিষয়ে সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি ফোন ধরেননি।
