কলকাতা: দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজপাট শেষ। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানার অবসান। আর এই প্রথম বারের জন্য ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা। সেই আবহেই তৃণমূলনেত্রীকে নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জানালেন, মমতার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। তবে তৃণমূল তার জীবনচক্র সম্পূর্ণ করে ফেলেছে বলে মত তাঁর। (Samik Bhattacharya on Mamata Banerjee)

Continues below advertisement

সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। আর মঙ্গলবার এবিপি আনন্দকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন শমীক। তিনি জানান, রাত ২টোর পর ঘুমাতে গিয়েছিলেন। তাড়াতাড়ি ঘুমও ভাঙিয়ে দেওয়াও হয় তাঁর। তবে রাজ্যে যে বিজেপি ক্ষমতায় এসে গিয়েছে, বিজেপি-র সরকার হতে চলেছে, তাতে এখনও আত্মস্থ হতে পারেননি তিনি। বরং বাড়ির বাইরে পাইলট কার দেখে, তাঁকে স্যালুট জানাতে দেখে আশ্চর্য বোধ করেন তিনি। (West Bengal BJP)

আরও পড়ুন: ব্রিগেডে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী? সব ঠিক করতে দিল্লি ছুটলেন সুনীল বনসল

Continues below advertisement

বিজেপি সরকারে এসে রাজ্য়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন ঘটাবে বলে জানিয়েছেন শমীক। সেই সঙ্গে মমতাকে নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট জানিয়ে দেন। শমীকের কথায়, "মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন যিনি প্রাক্তন...তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ আছে। কিন্তু ব্য়ক্তিগত স্তরে তাঁকে আক্রমণ করার ইচ্ছে বা রুচি বিজেপি-র নেই। তিনি তাঁর মতো করে রাজনীতি করবেন। তাঁর রাজনীতি করাতে অহেতুক বিজেপি কোনও অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না।"

তবে মমতাকে নিয়ে কোনও কড়া মন্তব্য না করলেও, তৃণমূলের প্রতি নিজের মনোভাব জানাতে দ্বিধা করেননি শমীক। তিনি বলেন, "আমি আবার বলছি, তৃণমূল তাদের জীবনচক্র সম্পূর্ণ করে ফেলেছে। আমি রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার নই। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীষ বিরোধিতা বিরোধিতার জায়গায়, থাকবে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কিন্তু প্রতিহিংসামূলক যে রাজনীতি তৃণমূল করেছে...একটা সভা করতে ১০৪ বার হাইকোর্টে যেতে হয়েছে বিরোধী দলনেতাকে। গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে তাঁকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছে। এটা বিজেপি করবে না কোথাও চেষ্টা হলে বরং প্রতিহত করবে।"

আরও পড়ুন: রাজ্যে পালাবদল হতেই, ইস্তফা অ্যাডভোকেট জেনারেলের, রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠালেন

গতকাল ফলঘোষণার পর একাধিক জায়গায় তৃণমূলের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এদিন সেই নিয়েও কড়া বার্তা দেন শমীক। জানান, রাজারহাট-গোপালপুরেও তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পেয়েছেন তিনি। শমীকের দাবি, যারা ওই ভাঙচুর চালিয়েছে, তারা কেউ বিজেপি-র নয়। বিজেপি-র পতাকা ব্যবহার করেছে। যদি দলের কেউ দলে থেকে থাকে, তাহলে চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে দল থেকে।