কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে আরও ২ হাজার ৩২৪ জনের নাম বাদ গেল। শনিবার SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলে, ভবানীপুরে আরও নাম বাদ গেল। এর আগে, খসড়া তালিকায় নাম বাদ গিয়েছিল ৪৪ হাজার ৭৮৭ জনের। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ভবানীপুরে নাম বাদ গিয়েছে ৪৭ হাজার ১১১ জনের। এখনও ভাগ্য় নির্ধারণ বাকি ১৪ হাজার ১৫৪ জন ভোটারের। (Mamata Banerjee Bhowanipore Constituency)

Continues below advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুর। ২০২১ সালের উপনির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে ৫৮ হাজার ৮৩২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন মমতা। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি-র প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। তবে যাঁদের নিষ্পত্তি হয়নি এখনও, তাঁদের মধ্যে কত জনের নাম যুক্ত হবে তালিকায়, তা এখনও বিবেচনাধীন। পাশাপাশি, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হলে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যত নাম থাকবে তালিকায়, তাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। (West Bengal SIR Final List)

এ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, "আমি জল্পনায় বিশ্বাস করি না। নির্বাচন কমিশন লিস্ট বের করবে। এখন নাম বাদ দেওয়ার বিষয় নেই। দুই ধরনের তালিকা বেরোবে, একটা অ্যাপ্রুভড, আর যেগুলো ভবিষ্যতে অ্যাপ্রুভ হবে। কারা বাদ গেল, তা বোঝা যাবে গোটা প্রক্রিয়া শেষ হলে। তার আগে কেউ বুঝতে পারবে নাষ। SIR কী প্রভাব ফেলবে, তা পরে বোঝা যাবে। তবে যে ২৪ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে ৫৮ লক্ষের মধ্যে, তাঁদের নামে আর ছাপ্পা ভোট মারতে পারবে না তৃণমূল। আমাদের কাছে যা খবর, ওই ২৪ লক্ষের মধ্যে ৬০ শতাংশের ভোট প্রতি নির্বাচনে ছাপ্পা দিত তৃণমূল। আর সেই ছাপ্পা দিতে পারবে না। এবার জনগণ তৃণমূলকে ধাপ্পা দেবে।"

Continues below advertisement

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর বলেন, "কার নাম বাদ যাবে, কী হবে, তা আমরা বলতে পারব না। আমাদের বলার কথাও নয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এটুকু আশ্বাস দিতে পারি যে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা এসেছেন, তাঁদের কাউকে ভারতের বাইরে পাঠানো হবে না। তাঁরা ভারতের নাগরিক হয়েই থাকবেন। এটাই ভারত সরকারের প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন কমিশন কী করবে, তাদের ব্যাপার।" মতুয়াদের উদ্দেশে বলেন, "আমি তো কিছু বলতে পারছি না, কাদের নাম বাদ যাবে। যাদের নাম থাকছে, একটা বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। মুখ্য়মন্ত্রী আগে তো সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন দু'বার। আবার নিশ্চয়ই যাবেন! এতদিন ধরে কেন বেআইনি ভোটার হিসেবে ছিল ওখানে, তা নিয়ে কিন্তু তদন্ত হওয়া উচিত।"

মমতাকে কটাক্ষ করেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, "হয় এখানে এতদিন অব্যবস্থা চলেছে, সেটার সংশোধন হল। নয়ত বড় গরমিল হল। সরাসরি চেক না করলে বোঝা যাবে না। যে যে ক্যাটেগরিতে বাদ যাওয়ার কথা, তা যদি না যায়, যদি বৈধ না হয়, তাহলে দুশ্চিন্তার কারণ হবে।"

যদিও তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, "ভূতের মুখে রামনাম শুনতে অভ্যস্ত নই আমরা। শান্তনুর এই দাবি ভূতের মুখে রামনামই। যেখান থেকে উনি সাংসদ হয়েছেন, সেই বনগাঁ লোকসভার মধ্যে কতজন মতুয়ার নাম বাদ গিয়েছে? তফসিলি জাতি, উপজাতির মানুষ, ভক্ত, পাগল, দলপতি, গোঁসাই, যাঁরা ঠাকুরবাড়ির অনুগামী...শরণার্থী হয়ে এপার বাংলায় এসেছেন, ভারতের নাগরিক হয়েছেন এবং ভোট দিয়ে শান্তনু ঠাকুরকে মন্ত্রী করেছেন। বনগাঁ, রানাঘাট, গাইঘাটা, কাদের ভোটে বিজেপি-র এই বাড়বাড়ন্ত! উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায় সবচেয়ে বেশি মতুয়াদের নাম বাদ গিয়েছে। আজ উনি ক্ষতে প্রলেপ দিচ্ছেন! আমরা প্রথম দিন থেকে বলেছিলাম, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়! আজ কেন এটা বলতে হচ্ছে শান্তনুকে? বিজেপি-র এই SIR-এর ফলে হিন্দু শরণার্থীরাই সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন। শান্তনু বুঝেছেন, সুতোয় টান পড়েছে।"

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে সব জেলা মিলিয়ে আপাতত ৭ লক্ষের বেশি নাম 'ডিলিটেড'। খসড়া ভোটার তালিকায় আগেই বাদ গিয়েছিল ৫৮ লক্ষের নাম। সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে আপাতত মোট ৬৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে বলে খবর কমিশন সূত্রে। পাশাপাশি, এখনও নিষ্পত্তি হয়নি ৬০ লক্ষের। অর্থাৎ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ১ কোটির বেশি মানুষ ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নি.ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।