West Bengal SIR: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ স্মরণ করিয়ে রাজ্যকে কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের। এসআইআর পর্বে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বরদাস্ত করা হবে না। বিশৃঙ্খলা এবং গাফিলতিতে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের সমস্ত নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। এসআইআর- এর জন্য পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েন করতে হবে। গ্রামাঞ্চলে ব্লক অফিস, পঞ্চায়েত অফিস, মহকুমা অফিসে শুনানির নথি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শহরাঞ্চলে ওয়ার্ড অফিস বা সরকারি ভবনে শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। 

Continues below advertisement

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া গিয়েছে একের পর এক বিশৃঙ্খলার খবর। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে একাধিক জেলায়। সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে এসআইআর- এর শুনানি পর্বেও। কোথাও বিডিওদের অফিসের সামনে চলছে বিক্ষোভ। কোথাও ডিএম অফিসের সামনে চলছে ধর্না। শুধু অবস্থান বিক্ষোভেই সীমিত নেই, অবাধে চলেছে ভাঙচুরও। আর এইসব ক্ষেত্রে রাজ্যকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে আরও অনেক কড়া বার্তা। 

এস আই আর নিয়ে আজ বুধবারও স্বরূপনগর বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়েছে তৃণমূল। রাস্তা অবরো করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয়। স্বরুপনগর ব্লকের স্বরূপনগর বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ, এসআইআর- এর কাজ সঠিক পদ্ধতিতে হচ্ছে না, বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে দিনের পর দিন হয়রানি করা হচ্ছে। আর তারই প্রতিবাদে স্বরূপনগর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে গ্রামবাসীদের নিয়ে বিডিও অফিসের সামনে বাইক, ফেস্টুন, ব্যানার এবং দলীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয় আজ। এই বিক্ষোভের পরে উত্তেজিত দলের কর্মী-সমর্থকরা পুলিশের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় দু'পক্ষের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশবাহিনী আসে এলাকায়। এই গোটা ঘটনার জেরে বিডিও অফিসের সামনের রাস্তায় এবং আশপাশে এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। 

Continues below advertisement

এর আগে ডেডলাইন দিয়ে মুখ্যসচিবকে কড়া চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় গরমিল বিতর্কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব তলব করা হয়েছে। কেন দফতর নির্দেশ কার্যকর করেনি, সেই বিষয়ে রিপোর্ট দিতে বলেছে কমিশন। 'কমিশনকে না জানিয়ে কীভাবে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ?' ERO, AERO-র বিরুদ্ধে FIR-নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন রাজ্যের। কমিশনকে না জানিয়ে রাজ্যের ৪ অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত। 'সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ বাধ্যতামূলক'। 'কমিশনের সঙ্গে আলোচনা না করেই FIR-এর বদলে বিভাগীয় তদন্ত'। 'রাজ্যের নেওয়া সিদ্ধান্ত অবৈধ', মুখ্যসচিবকে চিঠি নির্বাচন কমিশনের। এই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াগতভাবে ভুল এবং গৃহীত নয়, জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 'যারা এই ভুল করেছেন, তাদের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে', ২৪ জানুয়ারি, বিকেল ৫টার মধ্যে বিভাগীয় তদন্তের নথি পেশের নির্দেশ।