বিজেন্দ্র সিং, নয়াদিল্লি: ED-তল্লাশি নিয়ে তোলপাড়, সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে ED এবং তৃণমূলের জোড়া মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি অবধি পিছিয়ে দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এদিনই শুনানি চেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে ইমেলে আর্জি জানায় ED। একইসঙ্গে আবেদন করা হয়, এই মামলা অন্য কোনও বিচারপতির এজলাসে পাঠিয়ে শুনানি হোক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানান, বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশ যেহেতু জুডিশিয়াল অর্ডার, তাই তিনি প্রশাসনিকভাবে এই নির্দেশের উপর কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। আগামী ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ইডি সূত্র থেকে জানা গিয়েছিল, শুনানি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে ED। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার ক্যাভিয়েট দাখিল করল, এমনটাই মত আইনজীবী মহলের।        

Continues below advertisement

ক্যাভিয়েট দাখিল করলে কী হবে ক্যাভিয়েট দাখিল হল একটি আইনি প্রক্রিয়া। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করে। ক্যাভিয়েট দখলের অর্থ,  আদালতকে জানানো  যে, যদি কোনও মামলায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো আবেদন আসে, তাহলে তাদের বক্তব্য না শুনে যেন কোনও রায় না দেওয়া হয়।  আইপ্য়াককাণ্ড নিয়ে টানাপোড়েনে হাইকোর্টে গেছে তৃণমূল এবং ED দু'পক্ষই।

তৃণমূল হাইকোর্টে পিটিশনে দাবি করছে, 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্য়প্রণোদিতভাবে নির্বাচনের প্রচার সংক্রান্ত গোপন এবং স্পর্শকাতর নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।' পাল্টা ED-র পিটিশনে দাবি, 'এই তল্লাশি অভিযান প্রমাণভিত্তিক ও পুরোপুরি আইনত'। এমত পরিস্থিতিতে শুক্রবার শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর যদি ইডি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে যায়, তাই শীর্ষ আদালতের কাছে রাজ্যের বিরুদ্ধে কোনও আবেদন এলে, সুপ্রিম কোর্ট যেন রাজ্যের বক্তব্যও শোনেন। 

Continues below advertisement

অন্য বৃহস্পতিবারের ঘটনার প্রেক্ষিতে CBI তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ED। মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে পক্ষ করেছে তারা। অন্য়দিকে, অজ্ঞাতপরিচয় ED আধিকারিক ও CRPF-এর বিরুদ্ধে দুটি থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। যে যে অভিযোগে পুলিশ ধারা দিয়েছে, সেগুলি হল, হুমকি (৩/৫), চুরি (৩০৩/২), অনধিকার প্রবেশের ধারা দেওয়া হয়েছে। (৩৩২সি) এর মধ্যে চুরির অভিযোগ অর্থাৎ ৩০৩-এর ২ নম্বর ধারা জামিন অযোগ্য। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনেও ধারা দেওয়া হয়েছে। (৬৬ IT অ্যাক্ট)।