আবির দত্ত, অরিত্রিক ভট্টাচার্য, কলকাতা : উত্তর বাংলাদেশে ঘূর্ণাবর্ত। সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা পুরুলিয়ার ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। তার প্রভাবে মঙ্গলবারও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। আপাতত দুর্যোগ চলতে আরও কয়েকদিন। সকলেরই প্রশ্ন, কবে থামবে দুর্যোগ?  কী জানাল আবহাওয়া অফিস? 

আজ কোথায় কোথায় বৃষ্টি?

আজ, মঙ্গলবার, তুমুল বৃষ্টি চলবে বিভিন্ন জেলায়। সঙ্গে বইতে পারে উথালপাথাল হাওয়া। দুই চব্বিশ পরগনাতেই চলবে বৃষ্টি। সেই সঙ্গে ভিজবে হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং বাঁকুড়া । বুধবারও  দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আশার কথা, বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি কমবে। উত্তরবঙ্গে কাল থেকে বৃষ্টি বাড়বে। তবে ইতিমধ্যেই তিস্তার জল বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। ভেসে গিয়েছে দার্জিলিং-কালিম্পংয়ের রাস্তা। যোগাযোগ ব্যবস্থা চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্থ ইতিমধ্যেই। বৃষ্টি বাড়লে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি কেমন হবে, আশঙ্কায় পাহাড়ের মানুষ। 

এবার অতিবৃষ্টি কলকাতায় ? আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে,  বৃষ্টির পরিমাণে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণবঙ্গ। দক্ষিণবঙ্গে এবার ৬৫০.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এখানে ৫৫৮.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক । দক্ষিণবঙ্গে ১৬ শতাংশ অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায়। অন্যদিকে, স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গে।  আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট বলেছে, জুলাই মাসের শেষ দিকে এসে বৃষ্টিতে অন্যান্য অনেক জেলাকে টপকে গিয়েছে  কলকাতা।  দক্ষিণবঙ্গ এখনও বৃষ্টিতে এগিয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গের তুলনায়। এবার স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়াতে। 

 

প্রবল বৃষ্টির মধ্যে কলকাতায় ভেঙে পড়েছে তিনটি পুরনো বাড়ি। সোমবার রাতে, কলকাতা পুরসভার কাছে জানবাজারে ভেঙে পড়ে একটি দোতলা বাড়ির একাংশ। কলকাতা পুরসভা পুরনো এই বাড়িটিকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছিল। মঙ্গলবার ভোরে নারকেলডাঙার রাজেন্দ্রলাল স্ট্রিটে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ভেঙে পড়ে। এই দুই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। অন্যদিকে, মঙ্গলবার দুপুর ৩টে নাগাদ মুচিবাড়ায় রাজকুমার বোস লেনে ভেঙে পড়ে আরও একটি পুরনো বাড়ির একাংশ। আহত হন ৩ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি গাড়ি।