কলকাতা: কয়েকদিন ধরেই গরমে অস্বস্তি উঠেছিল চরমে। উপকূল ও সংলগ্ন জেলায় গরমের সঙ্গে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও ছিল। এরই মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টি। আরও বাড়তে পারে দুর্যোগ, হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে, একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, এবং সঙ্গে বইতে পারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। বিশেষত দক্ষিণবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, এবং নদিয়াতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকবে।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে, ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে এই দুর্যোগের জন্য দায়ী মৌসুমী বায়ু, যা পূর্ব ও পশ্চিম অংশে আলাদা ভাবে বিস্তার লাভ করেছে। ২৬ মে থেকে পশ্চিম অংশে দুর্বল হয়ে থাকা মৌসুমী বায়ু আবার বাংলায় প্রবাহিত হওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি থাকবে। বাকি সব জেলায় আর্দ্রতাজনিত ভ্যাপসা গরম অনুভূত হবে। সব জেলাতেই হলুদ সর্তকতা জারি রয়েছে।
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, সোমবার থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। তবে তা আপাতত বিক্ষিপ্ত ভাবেই। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর জেলায়। এ ছাড়াও ভারী বৃষ্টি হবে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলাতে। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকছে সপ্তাহ জুড়েই।
প্রসঙ্গত, সময়ের আগেই বর্ষা প্রবেশ করেছে উত্তরবঙ্গে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া, ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুরেও। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে কোথাও কোথাও। আগামী সপ্তাহের শেষের দিকেও উত্তরের জেলাগুলিতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকবে।